মমতা ‘অপ্রাসঙ্গিক’, সরকার এলে ধর্ম-সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে গুন্ডা দমন, হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে শুভেন্দুর দাবি, এবারের ভোট ছিল প্রায় হিংসামুক্ত। তবে ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা বিজেপি নেতার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ভবিষ্যৎ—সব প্রশ্নের মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তাঁর সোজাসাপটা দাবি, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন আর প্রাসঙ্গিক নন। একই সঙ্গে স্পষ্ট বার্তা, বিজেপি ক্ষমতায় এলে দল-মত বা ধর্মের তোয়াক্কা না করেই গুন্ডাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে যান নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের জয়ী প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। সিইও মনোজকুমার অগ্রবাল, বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এনকে মিশ্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, এবারের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং সেই জন্য কমিশন ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদাহরণ টেনে শুভেন্দু বলেন, ভবানীপুরের বহু আবাসনে এবার প্রথমবারের মতো ইনসাইড পোলিং বুথ করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, বহু ভোটার জানিয়েছেন—এবার তাঁরা প্রথমবার নির্ভয়ে নিজের ভোট দিতে পেরেছেন। তাঁর কথায়, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ছিল প্রায় ‘ইন্সিডেন্ট ফ্রি’।

মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই শুভেন্দু মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে সংবিধানের দিকে ইঙ্গিত করেন। তবে রাজনৈতিকভাবে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা আর ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তাই তাঁকে নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা প্রয়োজন নেই।

ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে তুলনা টেনে শুভেন্দু বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা ও ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের তুলনায় এবার ঘটনা অনেক কম। তবে তা সত্ত্বেও তিনি পরিষ্কার করে দেন, কোনও ধরনের হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর দাবি, অতীতে বিজেপি কখনও পার্টি অফিসে হামলার পক্ষে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থানেই থাকবে।

প্রসঙ্গত, অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২১ সালে হাজার হাজার এফআইআর এবং বহু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। এবার সেই সংখ্যা অনেক কম। তবুও পুরনো ফাইলগুলি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। প্রয়োজনে পুলিশকে প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে হবে বলেও জানান।

শেষে কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, এখনও কিছু দুষ্কৃতী সক্রিয় রয়েছে। তবে বিজেপি সরকার গঠিত হলে আইন মেনে, কোনও পক্ষপাত না করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সকলকে শান্ত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

এদিকে, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও হিংসা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, কেউ বিজেপির নাম ভাঙিয়ে অশান্তি ছড়ালে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। প্রমাণ দিলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত