প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (SSC Recruitment Scam) আরও বিপাকে পড়লেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেটের ষষ্ঠ সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ, তাপস মণ্ডল, কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল তাঁর, আর তাঁদের চক্রের মাধ্যমেই নিয়োগ দুর্নীতির জাল বিস্তার করেছে চন্দ্রনাথ।
ইডির দাবি, এই দুর্নীতির চক্রে চন্দ্রনাথ সিনহার হাত ধরে এসেছে প্রায় ১২ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা। এমনকি, কুন্তল ঘোষের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ১৫৯ জন অযোগ্য প্রার্থীর তালিকাও এসেছিল তাঁর সূত্রেই। ওই প্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল সর্বনিম্ন ৮ লক্ষ থেকে সর্বাধিক ১০ লক্ষ টাকা।


ইডি চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বোলপুরে চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ৪১ লক্ষ টাকার কোনও সঠিক হিসেব তিনি দিতে পারেননি। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, বাজেয়াপ্ত অর্থের মধ্যে প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা তাঁর ও স্ত্রীর নামে থাকা ব্যবসার হলেও বাকি টাকার উৎস সম্পর্কে তিনি বা তাঁর পরিবার কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।
১২ কোটি টাকায় ১৫৯ জনকে চাকরি বিক্রি? পার্থর মুক্তি নিকটে আসতেই শিয়রে শনি চন্দ্রনাথের!

ইডির মতে, তাপস মণ্ডলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল মন্ত্রী চন্দ্রনাথের। তিনি কলকাতায় এলেই তাপসের সঙ্গে দেখা করতেন। এমনকি, কলেজ স্ট্রিটে প্রাথমিক শিক্ষক ট্রেনিং কলেজ সংগঠনের এক অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতিও তদন্তে উঠে এসেছে।
চার্জশিটে সুতির একটি প্রাথমিক শিক্ষক ট্রেনিং কলেজ ও তার মালিক পিপুলউদ্দিন শেখের নামও এসেছে। ইডির দাবি, এই কলেজ থেকে ট্রেনিং নেওয়া বহু প্রার্থীর নাম তাপস মণ্ডলের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন চন্দ্রনাথ সিনহা। ২২ জন প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৩ জন অযোগ্য প্রার্থী চাকরি পান এই যোগসূত্রে।


অভিযোগ, ২০০২–২০০৩ সাল থেকেই তাপস ও কলেজ মালিকের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর সেই সূত্র ধরেই ১৫৯ জন প্রার্থীর তালিকা পাঠানো হয়েছিল বলে ইডির দাবি।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে জেলে বন্দি। সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে এই মামলার জামিন শুনানি শেষ হলেও রায় ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, যদি পার্থ চট্টোপাধ্যায় জামিন পান, তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে এবার চরম বেকায়দায় পড়বেন কি চন্দ্রনাথ সিনহা?







