নজরবন্দি ব্যুরোঃ তিন দফায় ৪০০ দিন । গ্রীষ্মের উত্তাপ তাঁদের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে হবু শিক্ষকদের আন্দোলনের কাছে। তাঁদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন ক্যান্সার আক্রান্ত সোমা দাস। কারণ, মেধাতালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বেআইনি নিয়োগের কারণে বাদ পড়তে হয়েছে তাঁদেরকে। এখনও সরকারের আস্থা এবং ভরসা রেখেই ৪০০ দিনে পড়ল হবু শিক্ষকদের আন্দোলন।
আরও পড়ুনঃ শিল্প সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রে নেই নাম, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ঘিরে জল্পনা


হবু শিক্ষকদের বক্তব্য,প্রথম দফায় ডাক পেলেও স্কুল সার্ভিস কমিশন নম্বর ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করেনি৷ ১:১.৪ অনুপাতে নিয়োগের গেজেটকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। মেধাতালিকায় সামনের দিকে নাম থাকলেও নিয়োগ পাননি বহু প্রার্থী। বরং তালিকায় নাম জুড়েছে মেধা তালিকায় পিছনে থাকা প্রার্থীদের৷ অভিযোগ, অবৈধভাবে নিয়োগ করা হয়েছে।

এই অভিযোগে২০১৯ সালের মার্চ মাসে প্রেস ক্লাবের সামনে ২৯ দিন ধরে অনশন কর্মসুচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন হবু শিক্ষকরা। সেখানে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ২০১৯ এর নির্বাচনের পরেই নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
সেই অভিযোগ তুলে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের তিন বার বৃহত্তম অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন করতে হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে প্রেসক্লাবের সামনে ২৯ দিনের অনশন, ২০২১সালের জানুয়ারি থেকে সেন্ট্রাল পার্কের ৫ নম্বর গেটের সামনে ১৮৭ দিনের অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন।



এরপর গত বছরের ৮ ই অক্টোবর থেকে ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্ণা। মোট ৩ দফায় ৪০০ দিনে পড়ল আন্দোলন। এখন তাঁদের কাছে অনুপ্রেরণা ক্যান্সার আক্রান্ত সোমা দাস। যিনি আদালতকে স্পষ্ট জানিয়েছেন শিক্ষাকতার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান তিনি। সহকারী শিক্ষক হিসাবে সোমাকে নিয়োগ করা যায় কি না তা বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
৪০০ দিনে পড়ল হবু শিক্ষকদের আন্দোলন, তবুও হাল ছাড়তে নারাজ সোমারা

চাকরী প্রত্যাশীদের বক্তব্য, “সোমা দাসের লড়াই আগামীতেও সবার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। প্রথম দফায় ডাক পেয়েও মেধাতালিকাভুক্ত বঞ্চিতরা ন্যায্য চাকরির দাবীতে ৪০০ দিন ধরে ধর্ণা অবস্হান চালিয়ে যাচ্ছে আর অকৃতকার্যরা পরীক্ষায় পাশ না করেও চাকরি করছে। এর থেকে লজ্জার কিছু হয়না। বঞ্চিত মেধাতালিকাভুক্তদের ন্যায্য চাকরির দাবীতে উচ্চ আদালতের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এর দাবী জানাই। দুর্নীতি হয়েছে এটা জানার পরও উনি যেন নীরব না থেকে বঞ্চিত মেধাতালিকাভুক্তদের প্রতি সুবিচার করেন”।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



