আংশিক শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা নম্বর নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য, প্রমাণ হলে প্রার্থীপদ বাতিল: SSC

অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর ঘিরে নতুন বিতর্ক, দুই আংশিক শিক্ষকের নম্বর পাওয়া নিয়েই আদালতে তোলপাড়

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে একের পর এক বিতর্ক দানা বাঁধছে। আংশিক সময়ের শিক্ষকরা অভিজ্ঞতার নম্বর পেলেন কি না, এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে শুরু হয় তীব্র আলোচনার ঝড়। অভিযোগ উঠেছে—২০১৬–এর প্যানেল বাতিল হওয়ার পর নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় কমপক্ষে দু’জন আংশিক শিক্ষক অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর পেয়েছেন।
এ নিয়ে রীতিমতো মামলা দায়ের হয় আদালতে। বুধবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে সেই মামলার শুনানি হতেই SSC-এর অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যায়।

শুনানির শুরুতেই স্কুল সার্ভিস কমিশন জানায়,
“যদি কোনও আংশিক সময়ের শিক্ষক ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন, বা অভিজ্ঞতার নম্বর পেয়ে থাকেন, প্রমাণ হলে তাঁর প্রার্থীপদ বাতিল করা হবে।”
কমিশনের এই মন্তব্যে আদালত কক্ষেই উত্তেজনার তৈরি হয়। কারণ মামলাকারীদের দাবি—যদি দু’জন আংশিক শিক্ষক এই নম্বর পেয়ে থাকেন, তাহলে বাকি আংশিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

আংশিক শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা নম্বর নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য, প্রমাণ হলে প্রার্থীপদ বাতিল: SSC

চলতি বছরের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের SSC প্যানেলকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়। ফলস্বরূপ চাকরি হারান ২৫,৭৫২ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।
চাকরিহারা যোগ্য প্রার্থীদের জন্য আদালত নির্দেশ দেয় নতুন পরীক্ষার। সেই নির্দেশ অনুযায়ী পরীক্ষা হয়, ফল প্রকাশিতও হয়। আর সেই ফলেই দেখা যায়—যাদের পূর্ণকালীন অভিজ্ঞতা ছিল, তারা নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ১০ নম্বর পেয়েছেন।

আংশিক শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা নম্বর নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য, প্রমাণ হলে প্রার্থীপদ বাতিল: SSC
আংশিক শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা নম্বর নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য, প্রমাণ হলে প্রার্থীপদ বাতিল: SSC

কিন্তু অভিযোগ ওঠে—দু’জন আংশিক সময়ের শিক্ষকও অভিজ্ঞতার নম্বর পেয়ে গেছেন।
মামলাকারীদের দাবি—
“আইন অনুযায়ী আংশিক শিক্ষকেরা এই নম্বর পাওয়ার যোগ্য নন। তাহলে এই দু’জন পেলেন কীভাবে?”

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ

বিচারপতি অমৃতা সিনহা বুধবারের শুনানিতে SSC-কে আগামী ২ ডিসেম্বর বিস্তারিত তথ্যসহ রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেন।
সেই দিনই পরবর্তী শুনানিতে আদালত কমিশনের ব্যাখ্যা শুনবে।

আইনজীবীদের মতে, যদি সত্যিই আংশিক শিক্ষকেরা অভিজ্ঞতার নম্বর পেয়ে থাকেন, তাহলে তা শুধু একক মামলার বিষয় নয়—
বরং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা ও সমতার প্রশ্ন।

প্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ

এই ঘটনায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অনেকের বক্তব্য—
“SSC যদি নম্বর দিতেই হয়, তাহলে নিয়ম স্পষ্ট করে দিক। দু’জন পেলেন, বাকিরা পেল না—এভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া অসম হয়ে যাচ্ছে।”

আবার অনেকে বলছেন—
“ঐ দু’জন আংশিক শিক্ষক যদি নম্বর পান, তাহলে কমিশন কি তাদের বিরুদ্ধে অদূর ভবিষ্যতে পদক্ষেপ নেবে? নাকি আবারও রাজনৈতিক চাপে চাপা পড়ে যাবে সব?”

SSC-র অবস্থান: কঠোর ও স্পষ্ট

কমিশন বুধবার জানিয়ে দেয়—
“যে কেউ ভুল তথ্য দেবে, তাঁর প্রার্থীপদ বাতিল হবে। অভিজ্ঞতার নম্বর নিয়ে কোনও প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না।”
SSC-এর এই দৃঢ় অবস্থান মামলাকারীরা স্বাগত জানালেও তাঁরা চান—
নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের ওপর আদালতের কড়া নজর থাকুক।

কেন এই মামলা এত গুরুত্বপূর্ণ

এই মামলা শুধুমাত্র দু’জন প্রার্থীর বিষয় নয়।
বরং এটি সিদ্ধান্ত নেবে—
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘অভিজ্ঞতার নম্বর’ কাদের জন্য বৈধ, কাদের নয়।
যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যতের ওপর।

আগামী ২ ডিসেম্বরের শুনানি তাই SSC নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত