SSC 26000 চাকরি বাতিল মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যত পুনর্বিবেচনার আর্জি জমা হয়েছিল, তার সব ক’টি খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। রাজ্য সরকার, স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং চাকরিহারাদের একাংশ এই রিভিউ পিটিশন জানিয়েছিল। তবে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—রায়ের পুনর্বিবেচনার কোনও প্রয়োজন নেই।
কেন খারিজ হল আবেদন?
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, নিয়োগ পরীক্ষার প্রকৃত OMR শিট মেলেনি। সিবিআই তদন্ত ও বাগ কমিটির রিপোর্টে স্পষ্ট দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। তাই একাধিক পক্ষের আর্জি খারিজ করাই আদালতের মতে ন্যায্য সিদ্ধান্ত।


পূর্ববর্তী রায় কী বলেছিল?
গত ৩ এপ্রিল শীর্ষ আদালত SSC-এর ২৫,৭৩৫ চাকরি বাতিলের রায় দেয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানায়, অনিয়ম এতটাই গুরুতর যে যোগ্য-অযোগ্য আলাদা করা সম্ভব নয়। তাই ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগপ্যানেল বাতিল করা হয়। নির্দেশ দেওয়া হয়, নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যাঁরা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের বেতন ফেরত দিতে হবে।
রাজ্য ও SSC-র যুক্তি
চাকরি বাতিলের ফলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় বিপর্যয় আসবে বলে যুক্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকার ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। বহু স্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক শূন্য হয়ে যাবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। এই কারণেই পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের শর্তসাপেক্ষ ছাড়
এর আগে ১৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট শর্তসাপেক্ষে জানিয়েছিল, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির কিছু শিক্ষক ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কাজে যেতে পারবেন। তবে সেইসঙ্গে রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ৩১ মে-র মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে। রাজ্য ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।


কী দাঁড়াল এখন?
এই রায়ের ফলে SSC 26000 চাকরি বাতিল বহাল থাকল। রাজ্য ও এসএসসি-র সমস্ত আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় এখন আর কোনও আইনগত পথে পুরনো নিয়োগ বাঁচানো সম্ভব নয়। আদালত নতুন নিয়োগের দিকেই জোর দিচ্ছে। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে এক বিশাল পরিবর্তন আসতে চলেছে।
শেষ কথা
SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায় রাজ্যের সরকারি চাকরি প্রার্থীদের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলল। এখন সব নজর রাজ্যের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার দিকে।








