আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে। ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের দিন কী খোলা থাকবে আর কী বন্ধ—তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি রয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটের দিন সাধারণ জীবনযাত্রায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বদল আসবে, তবে জরুরি পরিষেবায় কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না।
ভোটের দিন যেসব এলাকায় ভোটগ্রহণ হবে, সেখানে অধিকাংশ দোকানপাট, বাজার, শপিং কমপ্লেক্স এবং কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও কর্মীদের ভোটের দিন ছুটি দিতে হবে। এমনকি যাঁদের কর্মস্থল অন্য এলাকায় হলেও, যদি তাঁদের ভোটের কেন্দ্র অন্যত্র হয়, সেক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সবেতন ছুটি দিতে বাধ্য সংস্থা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়—সবই বন্ধ থাকবে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস চালু রাখা যেতে পারে। পোলিং স্টেশনের কাছাকাছি থাকা ব্যাঙ্কের শাখাগুলিও বন্ধ থাকতে পারে। তবে বিশেষ প্রয়োজন হলে সীমিত কর্মী নিয়ে পরিষেবা চালানোর অনুমতি রয়েছে, শর্ত একটাই—কর্মীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
অন্যদিকে, জরুরি পরিষেবাগুলি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে। হাসপাতাল, ওষুধের দোকান, দুধের দোকান এবং গণপরিবহণ পরিষেবা চালু থাকবে আগের মতোই। অর্থাৎ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পরিষেবায় কোনও সমস্যা হবে না।
মদের দোকান, বার ও পাব নিয়ে কড়া নির্দেশ জারি হয়েছে। প্রথম দফার ভোটের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় ২১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত মদের দোকান বন্ধ থাকবে। একইভাবে, দ্বিতীয় দফার ভোট (২৯ এপ্রিল) যেখানে হবে, সেখানে ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে একই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
সব মিলিয়ে, ভোটের দিন স্বাভাবিক জীবনে কিছু বিধিনিষেধ থাকলেও, লক্ষ্য একটাই—শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা।



