ভোটের মুখে পুরুলিয়ার বলরামপুরে ফের চড়ল রাজনৈতিক পারদ। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের আগে দুই বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “মৃত্যুকে হাতিয়ার করে রাজনীতি করে বিজেপি”—এই মন্তব্যেই সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল।
বলরামপুরের জনসভা থেকে অভিষেক বলেন, ২০১৮ সালে ত্রিলোচন মাহাতো ও দুলাল কুমারের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপি উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেই সময় দলের সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন অমিত শাহ। অভিষেকের দাবি, নিহতদের পরিবারকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আট বছর কেটে গেলেও তা পূরণ হয়নি। এমনকি এখন তাঁদের ফোনেরও উত্তর দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।


তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “যে দল নিজের কর্মীদেরই ভুলে যায়, তারা সাধারণ মানুষের জন্য কী করবে?” একইসঙ্গে বিজেপির প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় সাংসদের ঘনিষ্ঠ হওয়াতেই প্রার্থী করা হয়েছে জলধর মাহাতোকে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
এ দিনের সভা থেকে জ্যোতির্ময় মাহাতো-কেও নিশানা করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, এলাকার সাংসদ হয়েও তিনি মানুষের মৌলিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। ট্রেন পরিষেবার অনিয়মিততা তুলে ধরে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “যিনি ট্রেন সময়মতো চালাতে পারেন না, তিনি কীভাবে উন্নয়ন করবেন?”
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও একাধিক ইস্যুতে সরব হন তিনি। কুড়মি সম্প্রদায়ের দাবিদাওয়া, কুড়মালি ভাষার স্বীকৃতি না পাওয়া এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের নীতিতে আদিবাসী সংস্কৃতির উপর আঘাত আসছে।


শেষে ভোটের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির জবাব দিতে হবে উন্নয়ন ও শান্তির মাধ্যমে। তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে শান্তিরাম মাহাতোর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই মাটিতে শান্তিও থাকবে, উন্নয়নও হবে।”








