নজরবন্দি ব্যুরো: বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে! আজ বরানগরের সভা থেকে এমনই মন্তব্য করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। গতকাল থেকে শিতলকুচি কাণ্ডে তোলপাড় বাংলার রাজ্য রাজনীতি। ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন সাধারণ মানুষ। ঘটনার নিন্দায় সরব গোটা রাজ্য। আর এবার দিলীপ ঘোষের শাস্তির দাবিতে সরব হলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
আরও পড়ুনঃ বাহিনীর গুলিতে ৪ জনের মৃত্যুর দায় মমতার, রাজ্যে ক্ষমতায় এসে হিংসা বন্ধ করবেন অমিত শাহ!
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজই ঘটনাস্থলে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশের আগামী ৭২ ঘণ্টা কোচবিহারে যেতে পারবেন না কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। সেই মত জলপাইগুড়িতে বসেই ভিডিও করে কথা বলেন নিহতদের পরিবারের সঙ্গে। ঘটনায় কমিশনের ব্যর্থতার কথা বলে নিন্দা জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। এরই মধ্যে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
আজ সকালেই তিনি দাবি জানিয়েছিলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। তাঁর মতে বাংলায় মানুষকে উস্কানি দিচ্ছেন মমতা, আবেগে ঘা দিয়ে গুলির কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তাঁর প্রচার বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলেও দাবি করেছি লেন তিনি। তবে রোববারের বেলা কিছুটা বাড়তেই আবার বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন দিলীপ ঘোষ। আজ রবিবার, বরাহনগরের সভা থেকে তিনি বলেন, “সকলে ভোট দিতে যাবেন, কেউ যদি বাধা দেয়, কোনো কথা শুনবেন না, আমরা সব দেখে নেবো, মাথায় রাখবেন কেউ বাড়াবাড়ি করলে জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে।”
সেখানেই থামেননি তিনি, আরো বলেছেন, ” যারা ভেবেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী শুধু বন্দুক দেখানোর জন্যই আনে, কাল তারা বুঝে গেছে তার ভেতরে থাকা গুলির কত জোর।” কেউ আইন নিজের হাতে নিতে এলে এই অবস্থাই হবে বলেও সভা মঞ্চ থেকে বলছেন তিনি। বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যে রাজ্য জুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ। শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। যেখানে বিজেপির উচ্চ নেতৃত্ব দুঃখ প্রকাশ করে দেয় ঠেলে দিতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে, সেখানে দিলীপ কেনো সেই ঘটনাকে হাতিয়ার করে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন?
বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায় বলেছেন, “এই হচ্ছে BJP , RSS আর দিলীপ ঘোষদের মনোভাব, বাংলার মানুষ সব দেখছেন।” অন্যদিকে সুজন চক্রবর্তী বলবেন দিলীপ ঘোষ নির্বোধ, ওর কথার জবাব যত কম দেওয়া যায় মঙ্গল ততই। এই ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনার পর তাকেই উধাহরন দেখিয়ে জেববে হুঙ্কার ছেড়েছেন দিলীপ ঘোষ, তাতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন একাধিক অভিনেত্রী, শিল্পী এবং সাধারণ মানুষ।অভিনেতা জয়জিত জয়জিত বন্দোপাধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, কী বলছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি? অন্যদিকে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র ইমিডিয়েট শাস্তির দাবি করেছেন দিলীপ ঘোষের। তিনি নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “এই লোকটার ইমিডিয়েট শাস্তি হওয়া উচিৎ।” প্রসঙ্গত এর আগেও দিলীপ ঘোষের শিল্পীদের রগড়ে দেওয়ার প্রসঙ্গেও সরব হয়েছিলেন শ্রীলেখা।



