নজরবন্দি ব্যুরোঃ মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে বুঝিনি, ঘরের লক্ষ্মী চুরি করে নেবে তৃণমূল! সুজাতার তৃণমূল যোগদানের পর এভাবেই প্রতিক্রিয়া দিলেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি কাঁদতে কাঁদতে এদিন বলেন, “বাচ্চা মেয়ে, অনেক উচ্চাকাঙ্খা ছিল। বলত, বিজেপিতে তুমি বড় পদ পেলে, আমি কেন পেলাম না। লোকসভা ভোটের সময় বিষ্ণুপুরে তো ও বিজেপির জন্য লড়েনি, নিজের স্বামীর জন্য লড়েছিল। আমি যে সাংসদ পদ পেয়েছি, তার মান্যতা ও পেয়েছিল।”
আরও পড়ুনঃ ডাবল ডিজিট ক্রশ করতে পারবে না বিজেপি, কেরিয়ার বাজি রেখে চ্যালেঞ্জ পিকে-র


তাঁর কথায়, “বিজেপির নিয়ম নয় একই পার্টিতে দু’জন দুটো পদ পাবে। অমিত শাহ, কৈলাস বিজয়বর্গীয় ওকে নিজেদের মেয়ের মত দেখতেন। অমিত শাহ বলতেন, ওই আসল সাংসদ। আমি ওকে স্বপ্নে, ভালবাসায় মুড়তে পারি। কিন্তু যেভাবে দল পাল্টানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে আর কোনওদিন এক হওয়া যাবে না।” তৃণমূলে যোগ দিতেই সুজাতা-কে বিবাহ বিচ্ছেদের নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন সৌমিত্র!
কিন্তু তৃনমূলে কেন যোগ দিলেন সুজাতা? সৌমিত্র জানিয়েছেন, “ড্রাইভার বলল, একটা জ্যোতিষীর সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, সে বলেছে, তৃণমূলে গেলে বড় জায়গা পাবে।” এদিকে সৌমিত্র খাঁ তথা বিজেপি-র রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতিকে নিয়ে সুজাতার মন্তব্য, “কে বলতে পারে আগামী দিনে বিজেপি-র রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতি তৃণমূলে যোগ দেবেন না!” এই প্রসঙ্গে সৌমিত্রর দাবি, “তৃণমূলে ফেরা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনও কথা হয়নি। গত ৭ দিন কথা হয়নি, শুধু হোয়াটসঅ্যাপে কথা হত। এখন খাঁ পদবি ছেড়ে সুজাতা মণ্ডল হয়ে যা খুশি করুক।”
কাঁদতে কাঁদতে সৌমিত্র এদিন বলেন, “জানুয়ারিতে বিয়ের অ্যালবাম বানাব ভেবেছিলাম। তা আর হল না, উল্টে ডিভোর্সের নোটিস পাঠাতে হচ্ছে।” তাঁর কথায়, “আমি পার্টির যুব মোর্চার সভাপতি, এই ৩৯ বছর বয়সে এর বেশি আর কী পেতে পারি! আমি তোমাকে ভালবেসেছি, আমার লড়াই তোমার বিরুদ্ধে নয়, তৃণমূলের বিরুদ্ধে। একজনকে ভালবাসতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বপ্নকে হারিয়ে দিতে পারি না।”


এদিন কুনাল ঘোষ এবং সৌগত রায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন সুজাতা। তৃণমূলে ফিরে সুজাতা জানান, বিজেপিতে সম্মান মর্যাদা নেই, প্রিয় নেত্রীর নেতৃত্বে কাজ করতে চাই। এদিকে সুজাতার তৃণমূলে যোগ দানের খবর বিজেপি-র শীর্ষ নেতাদের কানে পৌছাতে সরাসরি ফোন করা হয় সৌমিত্র কে। সূত্রের খবর সৌমিত্র খাঁ কে বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়ে দেয় সুজাতা-র এই ভুলের মাশুল গুনতে হবে তাঁকে। এরপরেই সৌমিত্র সিদ্ধান্ত নেন সুজাতা কে ডিভোর্স দেবেন তিনি। কিন্তু কবে সুজাতাকে বিবাহ বিচ্ছেদের নোটিশ দিচ্ছেন সৌমিত্র তা পরিষ্কার হয় নি।







