সৌমিত্র খাঁ ও সুকান্ত মজুমদার। বঙ্গ বিজেপির অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়, দু’জন নাকি ঘনিষ্ঠ, এমনকি বন্ধু বললেও ভুল হয়না। সেই সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধেই কি এবার মুখ খুললেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ? লোকসভা ভোট এবং বিধানসভা উপনির্বাচনে ভরাডুবির পর আজ, বুধবার বিজেপির রাজ্য কর্মসমিতির বৈঠক চলছে সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে। সেই বৈঠকে যোগ দেবার আগে সাংগঠনিক রদবদলের পক্ষে জোর সওয়াল তুললেন সৌমিত্র খাঁ।
বর্ধিত আকারে বিজেপির রাজ্য কর্মসমিতির বৈঠক হচ্ছে। জেলা সভাপতি, জেলা ইন-চার্জ-সহ দলের সর্বস্তরের নেতাদের বৈঠকে ডাকা হয়েছে। থাকবেন রাজ্য স্তরের সমস্ত মোর্চা এবং শাখা সংগঠনের সদস্যেরা। বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষরা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে সুনীল বনশল, মঙ্গল পাণ্ডেরা এসেছেন।



বৈঠকে যোগদানের আগে বিজেপির সাম্প্রতিক অতীতে নির্বাচনের ফলাফল এবং ভবিষ্যত নিয়ে সৌমিত্রকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “সাংগঠনিক রদবদলের প্রয়োজন আছে। কোনও ব্যর্থ মানুষকে দেখতে পছন্দ করেন না জনগণ। দলে নতুনদের সুযোগ দিতে হয়। আমার মনে হয়, সাংগঠনিক পরিবর্তনের দরকার। তাই এই বৈঠক হয়। দিল্লির এটা নিয়ে ভাবা উচিত। গ্রামের মানুষের কাছে প্রচার করতে হবে যে, ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, সব কেন্দ্রের। সঠিক দিশা দেখাতে পারলে হবে, নইলে পুরো ফেল করে যাব।”
ব্যর্থ মানুষকে দেখতে পছন্দ করে না জনগণ, চাই নতুন মুখ, এবার সৌমিত্রের নিশানায় ‘বন্ধু’ সুকান্ত?



এই একই সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে সৌমিত্রের পাশাপাশি মুখ খুলেছেন ব্যারাকপুরের বিজেপির পরাজিত প্রার্থী অর্জুন সিংহ। যদিও আজকের বৈঠকে কি নিয়ে আলোচনা হয় এবং সুকান্ত মজুমদার কি বক্তব্য রাখেন সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। সুকান্ত প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে বদল আসবে। সেই পদের অন্যতম দাবিদার সৌমিত্র খাঁ। তিনি তিন বারের সাংসদ, এবার মন্ত্রিত্ব আশা করেও পাননি। এই ধরনের বয়ান দিয়ে কি সৌমিত্র দলকে চাপে রাখছেন? সে প্রশ্নও উঠছে। তবে, লোকসভার ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে সরব হতে দেখা গিয়েছে বিষ্ণুপুরের সাংসদকে।







