পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এক কাঠমিস্ত্রিকে মারধরের অভিযোগ উঠল অভিনেতা তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর (Soham Chakraborty) বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী রাজ কাপুর শর্মার দাবি, ফ্ল্যাটে আসবাবপত্র তৈরির কাজ শেষ করার পর বকেয়া প্রায় ৮০ হাজার টাকা চাইতে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। এরপর তাঁকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে দুর্ব্যবহার, মারধর এবং ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর বেহালা থানায় সোহমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই কাঠমিস্ত্রি।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় দেড় থেকে দু’মাস আগে নিজের ফ্ল্যাটে আসবাবপত্র তৈরির কাজের জন্য রাজ কাপুর শর্মার সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন সোহম। কাজ শুরুর আগে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি অভিযোগকারীর। বাকি টাকা কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর মিটিয়ে দেওয়ার কথা ছিল।
রাজের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র তৈরির কাজ শেষ হয়ে যায়। এরপর হিসেব অনুযায়ী তাঁর পাওনা প্রায় ৮০ হাজার টাকা হয়। সেই টাকা চাইতেই তিনি সোহমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, তখন বকেয়া টাকা দিতে অস্বীকার করেন অভিনেতা এবং জানিয়ে দেন, আর কোনও অর্থ দেওয়া হবে না।
এরপর রবিবার সোহমের এক নিরাপত্তারক্ষীর মাধ্যমে রাজকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। সেই মতো সোমবার তিনি সেখানে যান। অভিযোগকারীর দাবি, টাকা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁকে বেশ কিছুক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাকা না মেলায় তিনি ফের বকেয়া অর্থের কথা জানতে চান।
রাজের অভিযোগ, এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার পর মারধর করা হয় বলে দাবি করেছেন তিনি। পরে তাঁকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার পর সরাসরি বেহালা থানায় গিয়ে সোহমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রাজ।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সোহম চক্রবর্তীর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা বা ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে।
অভিযোগকে ঘিরে সোহমের পুরনো বিতর্কও ফের সামনে এসেছে। বিধায়ক থাকাকালীন সল্টলেকের একটি হোটেলে শুটিং করতে গিয়ে পার্কিং নিয়ে বচসার জেরে হোটেল মালিক ও কর্মীদের সঙ্গে তাঁর দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জল গড়িয়েছিল অনেক দূর। পরে নিজের আচরণের জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন অভিনেতা।
এ বার ফের তাঁর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ ওঠায় স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। যদিও অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার দায় বা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা যায় না। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত ছবি সামনে আসার অপেক্ষাতেই এখন নজর সবার।



