সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক, মিলবে কি দুর্গাপুজোর অনুদান?

৭ সেপ্টেম্বর নবান্নে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকারের আমলে অনুদান ও প্রশাসনিক সুবিধা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, নজর সেদিকেই।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি ঘিরে তৎপরতা শুরু রাজ্যে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই কলকাতা-সহ বাংলার পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর এই বৈঠক হবে। আর সেই ঘোষণার পরেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নতুন সরকারের আমলে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির জন্য কি আর্থিক অনুদান ঘোষণা করা হবে?

তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্গাপুজোর আগে পুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে বড় বৈঠক করতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সাধারণত আগস্টেই কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে সেই বৈঠক হত। সেখানেই পুজো কমিটিগুলির অনুদানের অঙ্ক ঘোষণা করা ছাড়াও বিদ্যুতের বিল, দমকলের অনুমতি-সহ একাধিক বিষয়ে বিভিন্ন সুবিধার কথা জানানো হত।

গত বছর রাজ্যের প্রায় ৪৫ হাজার দুর্গাপুজো কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছিল। ফলে এ বার রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই একই ধরনের আর্থিক সহায়তা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়েই আগ্রহ তৈরি হয়েছে পুজো কমিটিগুলির মধ্যে। ৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকেই এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ বার পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যে প্রথম বার বিজেপি বিপুল জনমত নিয়ে সরকার গঠন করেছে। তার মধ্যেই দুর্গাপুজোর অষ্টমীর অঞ্জলিতে কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) আসতে পারেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। বাংলায় সনাতনী রীতিনীতি মেনে দুর্গাপুজো পালনের বার্তাও বিজেপির একাধিক নেতা দিয়েছেন।

ফলে নতুন সরকারের প্রথম দুর্গাপুজো ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—দুই ক্ষেত্রেই আলাদা নজর রয়েছে। পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে কি না, দিলে তার পরিমাণ কত হবে, বিদ্যুৎ, দমকল বা অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে আগের মতো কোনও ছাড় দেওয়া হবে কি না—নবান্নের বৈঠক ঘিরে সেই প্রশ্নগুলিই এখন সামনে।

দুর্গাপুজো শুধু উৎসব নয়, বাংলার অর্থনীতির সঙ্গেও তার গভীর যোগ রয়েছে। পুজোর আগে মণ্ডপ তৈরি, প্রতিমা নির্মাণ, আলো, সাজসজ্জা, পোশাক, খাবার থেকে শুরু করে পরিবহণ ও ছোট ব্যবসা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হয়। পুজোর সময় রাজ্যের নানা প্রান্তে মানুষের যাতায়াত বাড়ায় পর্যটন ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়ে।

প্রতি বছর পুজোর সময় কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় বাড়ানো হয় পুলিশি নিরাপত্তা। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ, ভিড় সামলানো এবং বড় পুজোগুলির নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ বার নতুন সরকারের অধীনে সেই প্রস্তুতির ধরন কী হবে, ৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে তারও প্রাথমিক রূপরেখা সামনে আসতে পারে।

তাই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পুজো কমিটিগুলির এই বৈঠক শুধুমাত্র অনুদান ঘোষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। নতুন সরকারের আমলে বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব কীভাবে পরিচালিত হবে, পুজো কমিটিগুলির জন্য কী কী প্রশাসনিক সুবিধা থাকবে এবং উৎসবকে ঘিরে সরকারের সামগ্রিক নীতি কী—সেপ্টেম্বরের বৈঠকেই তার বেশ কিছু ইঙ্গিত মিলতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন