নজরবন্দি ব্যুরোঃ ট্রেনে সুখটান দিলে এবার ‘দুঃখ’ অবধারিত! পুলিসের খপ্পরে পড়তে বেশি সময় লাগবে না। আপনি হয়তো ভাবছেন, জানালার পাশে বসে বা টয়লেটের দরজা বন্ধ করে ধূমপান করলে চলন্ত ট্রেনে কর্তব্যরত পুলিসের পক্ষে তা টের পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এরকম অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করা গিয়েছে। সেরকমই এক প্রযুক্তি ট্রেনের কোচগুলিতে বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। ধাপে ধাপে সমস্ত দূরপাল্লার ট্রেনে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
আরও পড়ুনঃ কলকাতা থেকে দিঘার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, বাসের সঙ্গে ছোট গাড়ির সংঘর্ষে মৃত তিন


রেলের পরিভাষায় এই ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে ‘ফায়ার ডিটেকশন অ্যান্ড ব্রেক অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম’। ট্রেনের মধ্যে যে কোনও ধরনের ধোঁয়া দেখা গেলে এই যন্ত্রের সাহায্যে প্রথমে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। বার্তা যাবে কন্ট্রোল প্যানেলে। কিছুক্ষণের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যাবে ট্রেন। কর্তৃপক্ষের আশা, এই ব্যবস্থার ফলে রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বেপরোয়া ধূমপায়ীদের বাগে আনা যাবে। হাতেনাতে ধরা পড়ার ভয়ে ট্রেনের মধ্যে সুখটান থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবেন যাত্রীদের একাংশ।

সাম্প্রতিক অতীতে ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। প্রাণহানিও হয়েছে অনেকের। দেখা গিয়েছে, এসব ক্ষেত্রে কিছুটা আগে বিপদের আভাস পাওয়া গেলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যেত। তাই দ্রুত সমস্ত দূরপাল্লার ট্রেনে ব্যবস্থাটি লাগু করতে তৎপর হয়েছে রেল। এসি কোচগুলিতে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা বেশি থাকে বলে আগে সেগুলিতে চালু করা হচ্ছে এই বিশেষ ব্যবস্থা।
রেলের এক পদস্থ কর্তা জানান, ট্রেনের মধ্যে যে কোনও উৎস থেকে নির্গত ধোঁয়াকে শনাক্ত করার ক্ষমতা রয়েছে এই প্রযুক্তির। প্রথমে কন্ট্রোল প্যানেলে লাল বাতি জ্বলে উঠবে। সমানে ধোঁয়া নির্গত হতে থাকলে সংশ্লিষ্ট কোচে জ্বলে উঠবে লালবাতি। তারপর ধীরে ধীরে থেমে যাবে ট্রেন। পুরোটাই হবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে।


ধূমপান করলেই থমকে যাবে ট্রেন, পড়তে হবে পুলিশের খপ্পরে, সেন্সর বসাচ্ছে রেল!

পূর্ব রেল সূত্রে খবর, বর্তমানে তাদের বিভাগে মোট ১০৯২টি দূরপাল্লার ট্রেন চলে। এর মধ্যে ১৪৩টি ট্রেনে ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তি কার্যকর হয়েছে। যাত্রীবাহী সাধারণ কোচের পাশাপাশি প্রযুক্তিটি কাজে লাগানো হচ্ছে প্যান্ট্রি এবং পাওয়ার কারেও। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র বলেন, ‘যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য এবং যাত্রী নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবসময় অগ্রাধিকার। রেলে অগ্নিকাণ্ড জনিত দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার ডিটেকশন অ্যান্ড ব্রেক অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম বসানোর কাজ আমরা শুরু করেছি। ১৪৩টি ট্রেনে কাজ হয়েছে। আশা করছি, শীঘ্রই আমাদের শাখার ১০০ শতাংশ দূরপাল্লার ট্রেনে চালু হয়ে যাবে।’







