সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ঠিক পরের দিনই নবান্নে প্রশাসনিক মহলে কার্যত ঝড় তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর (Special Intensive Revision) ঘিরে জেলাশাসকদের বৈঠকে আচমকা হাজির হয়ে Mamata Banerjee স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন—কোনও অবস্থাতেই কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। শুধু নির্দেশেই থামেননি তিনি। কয়েক জন জেলাশাসককে ঘিরে তাঁর কড়া মন্তব্যে রাজ্যের সাধারণ প্রশাসনে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে ‘থরহরি কম্প’।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সোমবারই জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানাজানি হয়েছিল। আনুষ্ঠানিক ভাবে সেই বৈঠক ডেকেছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। কিন্তু মঙ্গলবার সেই বৈঠকেই আচমকা হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সূত্রের খবর, মাত্র ১০-১২ মিনিটের জন্য বৈঠকে ছিলেন তিনি। কিন্তু ওই অল্প সময়েই প্রশাসনের উদ্দেশে স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিয়ে দেন—‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র নামে যেন কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না যায়।


এর পরেই বৈঠকে আসে নাটকীয় মোড়। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হঠাৎই বলেন, তাঁর কাছে খবর আছে তিন-চার জন জেলাশাসক নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে তাঁদের রাজ্য সরকারের অধীনেই কাজ করতে হবে। তাই কোনও রকম ‘ভুল’ যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এসআইআর সংক্রান্ত Supreme Court of India-এর নির্দেশকে জেলাশাসকদের বৈঠকে কার্যত ‘আইনি জয়’ হিসেবেই তুলে ধরেন মমতা। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বলেন—রাজ্য সরকার যখন সুপ্রিম কোর্ট থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে পারে, তখন প্রশাসন কেন পারবে না? উল্লেখ্য, জেলাশাসকরাই একসঙ্গে জেলার প্রশাসনিক প্রধান এবং নির্বাচন কমিশনের খাতায় জেলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (DERO)।
তবে কোন তিন-চার জন জেলাশাসক কমিশন বা কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে কাজ করছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনও নাম করেননি মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের এক অবসরপ্রাপ্ত আমলার মতে, “এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কৌশল। সাধারণ প্রশাসনিক বৈঠকে এমন কথা বলেই তিনি এসআইআর পর্বে কমিশনের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করলেন।”


রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এসআইআর-এর বাকি ধাপ সামলাতে সাংগঠনিক ভাবে কী করতে হবে, তা মমতা ভালোই জানেন। সেই দায়িত্ব দলগত ভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে Abhishek Banerjee-র কাঁধে। জানা গিয়েছে, আগামী ২৪ জানুয়ারি এ বিষয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন অভিষেক। তার আগেই প্রশাসনিক স্তরে ‘ওষুধ’ প্রয়োগ করে রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—যিনি একই সঙ্গে রাজ্যের প্রশাসক ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বময় নেত্রী।







