পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্যে চলা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক ইঙ্গিতে স্পষ্ট—সময়সীমা পিছিয়ে যেতে পারে। অসম্পূর্ণ যাচাই ও বিপুল সংখ্যক নথি এখনও বাকি থাকায় তালিকা প্রকাশের দিন বদলানোর সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Kumar Agarwal জানিয়েছেন, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও যাচাইয়ের কাজ শেষ না হলে নির্ধারিত দিনে তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “ইআরও, এইআরও এবং জেলাশাসকদের কাছ থেকে কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার রিপোর্ট এলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সময়মতো কাজ শেষ না হলে সময় বাড়বে।”


এখনও বিপুল নথি যাচাই বাকি
সূত্রের খবর, এসআইআর শুনানি পর্ব শেষ হলেও এখনও বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর নথি অনলাইনে আপলোড হয়নি। রাজ্যজুড়ে প্রায় ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৭৭২টি নথি এখনও যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ করতে কমিশনের অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
এদিকে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশোধন প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত ৪ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৭০ জন ‘অবৈধ ভোটার’ চিহ্নিত হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।
নতুন ব্যবস্থা চালু নির্বাচন কমিশনের
নথি যাচাইয়ে মতভেদের জট কাটাতে নতুন পদ্ধতি চালু করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইআরও (AERO)-দের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মাইক্রো ও রোল অবজার্ভাররা একমত হচ্ছেন না।
এখন থেকে মতপার্থক্য হলে ERO ও AERO-রা সর্বাধিক ৫০০ শব্দে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে পারবেন। এর মাধ্যমে কোথায় মতবিরোধ হচ্ছে তা স্পষ্ট করা হবে।


আদালতের নির্দেশও গুরুত্বপূর্ণ
এসআইআর প্রক্রিয়ায় মাইক্রো অবজার্ভারদের ভূমিকা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে Supreme Court of India স্পষ্ট করে জানায়, মাইক্রো অবজার্ভাররা শুধুমাত্র সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে ইআরও-দের হাতেই।
সব মিলিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণার দিন ঘনিয়ে এলেও রাজ্যের ভোটারদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে।







