ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে ফের উত্তাল রাজনীতি। খসড়া ভোটার তালিকায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ৪৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে—এই তথ্য সামনে আসতেই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে নিজের দলীয় কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক ডাকলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে ভবানীপুরের সমস্ত কাউন্সিলর ও বিএলএ-২ (Booth Level Agent-2)-দের।
ভবানীপুর শুধু কলকাতার একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়—এটি মুখ্যমন্ত্রীর নিজের নির্বাচনী এলাকা। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী হয়েই তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে এখানকার ভোটারদের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি তাঁর কাছে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক—দু’দিক থেকেই অত্যন্ত সংবেদনশীল।
তৃণমূল সূত্রে খবর, এদিনের বৈঠকে ভবানীপুরের কোন কোন ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়েছে, তার বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেবেন দলনেত্রী। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভোটারদের পুনর্নথিভুক্ত করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতির খোঁজও নেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক বসছে। প্রথম পর্বে কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্বিতীয় পর্বে কথা বলবেন বিএলএ-২-দের সঙ্গে। বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন ফিরহাদ হাকিম, মেয়র পারিষদ অসীম বসু ও সন্দীপরঞ্জন বক্সি। পাশাপাশি তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি এবং ভবানীপুরের বাসিন্দা সুব্রত বক্সি-ও থাকছেন বৈঠকে।
উল্লেখ্য, SIR পদ্ধতি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ বা ‘আনম্যাপড’-এর মতো অজুহাতে বহু ভোটারকে অকারণে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে এবং তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী।
এই আবহেই আগামী রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি দিল্লি যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২ ফেব্রুয়ারি Election Commission of India-র দফতরে গিয়ে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর কথা তাঁদের। তার ঠিক আগের দিন নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের কাউন্সিলর ও বিএলএ-২-দের নিয়ে এই বৈঠক রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।



