রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক ঘিরে ফের রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে। কারণ, এই বৈঠকে শুধু শাসকদলের প্রতিনিধিরাই নন, উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল, কংগ্রেস এবং সিপিএমের একাধিক জনপ্রতিনিধিও। প্রশাসনিক উন্নয়ন ও জনস্বার্থের বিষয়কে সামনে রেখে আয়োজিত এই বৈঠক রাজনৈতিক মহলেও বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।
শুক্রবারের বৈঠকে মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গের একাধিক সাংসদ এবং বিধায়ক যোগ দেন। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ আবু তাহের ও খলিলুর রহমান। পাশাপাশি বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক তৃণমূল বিধায়কও বৈঠকে অংশ নেন। সিপিএমের ডোমকলের বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান এবং কংগ্রেসের ফরাক্কার বিধায়ক মোতাফ শেখের উপস্থিতিও নজর কেড়েছে।
তবে প্রশাসনিক বৈঠকের থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমানের মন্তব্য। বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, দলের মধ্যে কাউকে সম্মান না করার সংস্কৃতি এবং নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্ত তৃণমূলের রাজনৈতিক ক্ষতির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
খলিলুর রহমান দাবি করেন, দলের বহু নেতা-কর্মীর মতো তিনিও মনে করেন যে সংগঠনের বর্তমান সংকটের পিছনে নেতৃত্বের কিছু আচরণ দায়ী। তিনি বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি তাঁদের জন্য অস্বস্তিকর।
একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, লোকসভায় জমা পড়া একটি চিঠিতে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করা হলেও দলের অন্য কিছু নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে অসুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন খলিলুর। তাঁর কথায়, তিনি এখনও তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও দলেই কাজ করবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের নেত্রী বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী দিনে তাঁর নির্দেশ মেনেই রাজনৈতিক পথ চলবেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধিদের উপস্থিতি যেমন নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে, তেমনই তৃণমূলের অন্দরের অসন্তোষও ক্রমশ প্রকাশ্যে চলে আসছে। বিশেষ করে সাংসদদের একাংশের প্রকাশ্য মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।
সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক শুধু উন্নয়নমূলক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং তা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ এবং বিরোধী ও বিক্ষুব্ধ শিবিরের অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।



