দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ফের নজরে পুলিশের ‘পাবলিক রিকনস্ট্রাকশন’ অভিযান। ফলতায় তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটানোর ঘটনার পর এবার মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের লক্ষ্মীকান্তপুরে একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেল। গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেতা পঙ্কজ বরকে লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরিয়ে এলাকায় নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ।
শুক্রবার লক্ষ্মীকান্তপুর এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় ভিড় জমান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশের সঙ্গে হাঁটার সময় পঙ্কজ বরকে কিছুটা খুঁড়িয়ে চলতে দেখা যায়। তাঁর পরনে ছিল একটি ‘ব্যাটম্যান’ প্রিন্টের গেঞ্জি ও লুঙ্গি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে রাখার একটি মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে এলাকায় আনা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানা ধরনের অনিয়ম ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন পঙ্কজ বর। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বণ্টন, তোলাবাজি এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর মতো অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালত ও তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
পুলিশের দাবি, পঙ্কজ বরের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সন্ত্রাস, ভাঙচুর, লুটপাট, ভোটারদের ভয় দেখানো, তোলাবাজি এবং বেআইনি অস্ত্র সংক্রান্ত মামলা। এছাড়া খুন ও খুনের চেষ্টার অভিযোগেও তদন্ত চলছে বলে সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, ৯ জুন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন আদালতে পেশ করা হলে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তের স্বার্থেই তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, এর আগেও ফলতায় তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে একই ধরনের পুলিশি পদক্ষেপের ছবি সামনে এসেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই ‘ফলতা মডেল’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। এবার মগরাহাটের ঘটনাও সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।
তবে মানবাধিকার ও আইনি মহলের একাংশের মতে, অভিযুক্তকে নিয়ে প্রকাশ্য স্থানে এভাবে ঘোরানোর বিষয়টি নিয়ে আইনি ও নৈতিক প্রশ্নও উঠতে পারে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তদন্তের প্রয়োজনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পুনর্নির্মাণ একটি স্বীকৃত প্রক্রিয়া।
সব মিলিয়ে, পঙ্কজ বরকে ঘিরে এই পুলিশি পদক্ষেপ দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।



