আবার অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি! নতুন মামলায় নোটিস দিতে কালীঘাটে গোয়েন্দারা, বাড়ল রাজনৈতিক চাপ

সই-বিতর্কে জিজ্ঞাসাবাদের পর ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছল সিআইডি। এ বার ভোট প্রচারের বক্তব্য সংক্রান্ত মামলায় নোটিস।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি ও রাজনৈতিক অস্বস্তি যেন কাটছেই না। সই-সংক্রান্ত বিতর্কে জিজ্ঞাসাবাদের পর ফের তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছল সিআইডি। এ বার অবশ্য বিধানসভার সই-কাণ্ড নয়, ভোট প্রচারের সময় দেওয়া একটি বিতর্কিত বক্তব্য সংক্রান্ত মামলার তদন্তে নোটিস দিতে গিয়েছিলেন গোয়েন্দারা।

শুক্রবার বিকেলে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পটুয়াপাড়ার বাসভবনে যায়। তবে সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, তিনি তখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ছিলেন।

তদন্তকারী সূত্রে খবর, ভোট প্রচারের সময় দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। পরে মামলার তদন্তভার সিআইডির হাতে আসে। সেই মামলার অগ্রগতির অংশ হিসেবেই অভিষেককে নোটিস পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিষেকের অনুপস্থিতিতে তাঁর দফতরের কয়েকজন কর্মী সিআইডি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা জানান, সাংসদ বাড়িতে নেই এবং বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়েছে। তবে অভিষেকের পরিবর্তে অন্য কেউ নোটিস গ্রহণ করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও কিছুক্ষণ আলোচনা চলে।

কালীঘাটে সিআইডির উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। অভিষেকের বাড়ির সামনে জড়ো হন বহু কৌতূহলী মানুষ। ঘটনাস্থলে কয়েকজন আইনজীবীকেও দেখা যায়। যদিও নোটিসে ঠিক কী উল্লেখ রয়েছে, সে বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিধানসভার সই-বিতর্ক নিয়েও সিআইডির তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন অভিষেক। সেই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিকবার ডাকা হলেও তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ভবানী ভবনে হাজির হয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি।

সই-কাণ্ডে তদন্ত এখনও চলছে এবং সেই মামলায় ফের তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন একটি মামলায় সিআইডির নোটিস পৌঁছে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একের পর এক তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার কারণে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও এই নতুন নোটিস প্রসঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এখন নজর থাকবে সিআইডির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়ার দিকে। কারণ রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই তদন্তগুলির অগ্রগতি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর