প্রধানমন্ত্রীর অপমানে কাতর শুভেন্দু! সাফ জানালেন ফিস ফ্রাইয়ে ম্যানেজ হবেন না তিনি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রধানমন্ত্রীর অপমানের কাতর শুভেন্দু! ভার্চুয়াল বৈঠকে এসে বারবার সেকথাই তুলে আনলেন। এদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী নবান্নতে বসে বলছেন বারবার বাংলাকে অপমান করছে কেন্দ্র, বৈঠকে বলছেন “বাংলা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলার জন্য প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী পায়ে পড়তে পারি। প্রধানমন্ত্রী, আমার উপর আপনার রাগ থাকতে পারে। যদি আপনার পায়ে পড়লে সেই রাগ চলে যায় তাও করতে তৈরি আমি। কিন্তু বারবার এভাবে অপমান করবেন না।”

আরও পড়ুনঃ ২০ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী দিলীপ ঘোষ! বিধাননগর থানায় FIR দায়ের

ঠিক তার কিছু সময় ব্যবধানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী বারবার অপমান করছেন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে। চোখের সামনে প্রতিবারের অপমান দেখে ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। আজ দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন দুপুর ৩টেয় বৈঠক করবেন তিনি। কাকতালীয় ভাবে ঘোষণা হয় তার কিছুক্ষনের মধ্যেই ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও।

গতকাল থেকে রাজ্যে মূলত চর্চায় ইয়াসের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রির উপস্থিত না থাকা। এবং মুখ্যসচিবকে রাতারাতি বদলি করে দেওয়া দিল্লিতে। আজ নবান্নতে বৈঠক করে এই দুই টপিকেই বক্তব্য রেখেছেন, ঠিক একই কাজ করলেন শুভেন্দু। গতকালের বৈঠক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যখন জানাচ্ছেন দিঘায় পুর্ব পরিকল্পিত বৈঠক ছিলো, এবং সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষয়ক্ষতির হিসেব দিয়ে অনুমতি নিয়ে গিয়েছিলেন দিঘায়, তখন শুভেন্দু জানাচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করার পরে মুখ্যমন্ত্রী আসছেন কিনা জানতে আধিকারিকদের বলেন। উনি অনেক পরে এলেন। আমরা উঠে দাঁড়ালাম। উনি কিছু কাগজপত্র দিয়ে চলে গেলেন। তাঁর মতে যেভাবে একজন প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তাতে প্রতিবাদের ভাষা নেই তাঁর।

অধিকারীর বক্তব্য ২০১৯ সালে ফণী ঘূর্ণিঝড়ের পরে এবং ২০২০ সালে আমপানের পরেও বসিরহাটে আসেন। প্রথমে ১০ হাজার ও পরে ২,৭৫০ কোটি টাকা সাহায্য করেছিলেন। এবারেও  বর্তমান পরিস্থিতিতে কী ভাবে মানুষের সুবিধা করা যায় তার পরিকল্পনা করতে তিনি এসেছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী দায়সারা ভাবে কাগজ দিয়ে চলে গেলেন।

প্রসঙ্গ তুলেছেন নিজেকে নিয়েও। মুখ্যমন্ত্রী গতকাল বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে উপস্থিতির কথা সামনে আসার পরই। যদিও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন দিঘায় কাজের কারণে সময় পেলেন না তিনি, এ প্রসঙ্গে খোদ শুভেন্দু অধিকারী ‘বিরোধী দলনেতা’কে ডাকার বিষয়ে জটিলতা খুঁজে না পেয়ে বলেছেন বিরোধী দলনেতাকে ডাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজনীতি করা হচ্ছে। ওড়িশাতেও বিরোধী দলনেতাকে বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। এই রাজ্যেও বৈঠকে ডাক পেয়েছিলেন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী। যদিও মোদির ওড়িশ্যা এবং বাংলায় বিরোধী দলনেতারা ডাক পেলেও গুজরাটে কেনো পাননি সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে।

প্রধানমন্ত্রীর অপমানে কাতর শুভেন্দু!  ভার্চুয়াল বৈঠকে শুভেন্দু তুলেছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও। তাঁর মতে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাঙালি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। অথচ রাজ্যের আমলা থেকে প্রশাসন সব চালান মমতাই। তাঁর মতে এই রাজ্যের আমলরা অসহায় অবস্থায় কাজ করছেন। গতকালের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপনেরও বেরিয়ে যাওয়াকেই যখন অনেকে তাঁর বদলির কারণ হিসেবে ধরছিলেন।

তবে বিরোধী দলনেতা মনে করছেন হয়তো মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই তাঁকে করতে হয়েছে একাজ। সঙ্গে তাঁর দাবি গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক এড়িয়ে গিয়ে, তাঁকে অপমান করে গোটা দেশের কাছে বাংলাকে অপমান করেছেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। এবং এই মুহুর্তে রাজ্যের বিরোধী দলের জায়থায় থাকার কারণে শুভেন্দু মমতার উদ্দেশ্যে বলেছেন, ফিস ফ্রাই খাইয়ে বিরোধীদের ম্যানেজ করেছেন আগে কিন্তু আমাদের সেটা করা যাবে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন