শিবপুরে তৃণমূল নেতার বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে কার্যত চমকে উঠল পুলিশ। বাইরে থেকে সাধারণ বাড়ি মনে হলেও ভিতরে যেন বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ। আর সেই বাড়ির ভিতরেই মিলল গোপন সুড়ঙ্গের হদিশ। বহুমূল্য আসবাব, কারুকার্য করা ঘর, রাজকীয় সাজসজ্জা— সব দেখে হতবাক তদন্তকারীরা। বিজেপি নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগে ফেরার অরুপ রায় ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা শামিম আহমেদ ওরফে বড়ের খোঁজে গিয়েই সামনে এল এই চাঞ্চল্যকর ছবি।
তৃণমূল নেতা শামিম আহমেদের বাড়িতে তল্লাশি চালায় শিবপুর থানার পুলিশ। ভোট-পরবর্তী অশান্তির ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি পলাতক বলে জানা গিয়েছে।


তদন্তে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, বাড়ির ভিতরেই রয়েছে একটি গোপন সুড়ঙ্গ। সেই সুড়ঙ্গ ঘিরেই সামনে আসে একের পর এক বিলাসবহুল ঘরের ছবি। দামি আসবাবপত্র, পালঙ্কের মতো বিশাল বিছানা, কারুকার্যময় ড্রেসিং টেবিল— সব মিলিয়ে গোটা বাড়ির অন্দরসজ্জা দেখে অনেকেরই সিনেমার সেটের কথা মনে পড়েছে।
টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই ঘরের দরজাও, যেখানে নেমপ্লেটে লেখা রয়েছে শামিম আহমেদের নাম।
কী অভিযোগ শামিমের বিরুদ্ধে?
অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও এলাকায় নিজের প্রভাব বজায় রাখতে শিবপুরের চওড়াবস্তি এলাকায় বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের এক নেতার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের অন্যতম হিসেবে নাম উঠে আসে শামিম আহমেদের।


BJP-র অভিযোগ, হামলার সময় বোমাবাজি ও গুলিচালনার ঘটনাও ঘটে। এরপর থেকেই কার্যত উধাও হয়ে যান শামিম।
রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু
এই ঘটনার পর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “গুহা-সুড়ঙ্গ আরও অনেক কিছুই বেরবে। টাকার পাহাড়ও বেরবে।”
অন্যদিকে শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ অভিযোগ করেন, “৫০০ বছরের পুরনো শহরকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। জমি দখল, প্রোমোটিং, মাদক ব্যবসা— সব কিছুর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের উপর চাপ তৈরি করে অপরাধীদের মদত দেওয়া হয়েছে।”
যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও তৃণমূলের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।







