দীর্ঘ ছয় বছরেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই—কয়লা পাচার মামলায় তদন্তের গতি ও ভূমিকা নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুলল দেশের শীর্ষ আদালত। ইডির নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এতদিনেও কেন কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি, তার জবাব চাই। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ নিয়েও উঠে এসেছে একাধিক কড়া প্রশ্ন।
মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল তীক্ষ্ণ—“প্রায় ছয় বছর ধরে মামলাটি টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অথচ বাস্তবে কোনও পদক্ষেপই চোখে পড়ছে না।” এই মন্তব্যে কার্যত ইডির তদন্ত পদ্ধতিই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যায়।


ঘটনার সূত্রপাত, মূল অভিযুক্ত অনুপ মাঝির জামিনের বিরোধিতা করে ইডির সুপ্রিম কোর্টে আবেদন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে দাবি করা হয়, অনুপ দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন এবং পরে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থা আদালতে জানায়, এই মামলায় বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তি জড়িত।
তবে এই যুক্তি শুনেই পাল্টা প্রশ্ন তোলে আদালত। এতদিন সময় পাওয়ার পরও কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? কেন তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়নি? এখন হঠাৎ জামিনের বিরোধিতার কারণ কী? আদালতের পর্যবেক্ষণ, গোটা তদন্তই খাপছাড়া এবং গুরুত্বহীনভাবে এগিয়েছে—যা মামলার গুরুত্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
এই প্রেক্ষিতে ইডির কাছে বিস্তারিত হলফনামা চেয়ে পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, যাতে তদন্তের অগ্রগতি ও পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিতে হবে।


প্রসঙ্গত, কয়লা পাচার কাণ্ডে অনুপ মাঝি ওরফে ‘লালা’-র নাম বহুদিন ধরেই আলোচনায়। তদন্তে উঠে এসেছে, তাঁর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধ খনন ও পাচার চক্র চালাত। ইডির দাবি, পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সংস্থা নগদ টাকার বিনিময়ে বেআইনি কয়লা কিনত এবং সেই অর্থকে বৈধ আয়ের ছদ্মবেশে দেখানো হত।
গত বছরের নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে একযোগে অভিযান চালায় ইডি। আসানসোল, পুরুলিয়া, কলকাতা থেকে ধানবাদ—৪০টিরও বেশি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় নগদ টাকা, সোনার গয়না এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ কয়লা।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর বিভিন্ন খনি থেকে অবৈধভাবে কয়লা তোলার অভিযোগে যে মামলা শুরু হয়, তার সূত্র ধরেই এই বৃহত্তর তদন্ত। সেই সময় একাধিক প্রাক্তন কর্তা-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তের সূত্রে আইপ্যাকের দফতর ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়।







