বাংলাদেশের নির্বাচনের মুখে রাজনীতিতে নতুন করে ঝড় তুলল একটি অডিও বার্তা। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রথম প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখলেন—তাও ভারত থেকেই। দিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর অডিও বার্তা শোনানো হয়, যেখানে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস-কে সরাসরি ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘হত্যাকারী’ বলে আক্রমণ করেন। ভোটের আগে এই বার্তা যে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা মানছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। এরপর দীর্ঘদিন জনসমক্ষে তাঁর কোনও বক্তব্য শোনা যায়নি। আত্মগোপনে থেকেই তিনি ভারতে অবস্থান করছিলেন। সেই পরিস্থিতিতেই দিল্লির ফরেন জার্নালিস্টস সাউথ এশিয়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘Save Democracy in Bangladesh’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তাঁর রেকর্ড করা অডিও বার্তা শোনানো হয়।
এই সভায় বাংলাদেশের একাধিক বিতাড়িত প্রাক্তন মন্ত্রী, সমাজকর্মী ও থিয়েটার শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন। ভারতের কোনও সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রথম শেখ হাসিনার অডিও বার্তা প্রকাশ্যে শোনানো হল। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়, শেখ হাসিনা অনলাইনে যুক্ত থাকলেও তিনি কোনও প্রশ্নের উত্তর দেবেন না।
অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন,
“একসময় যে স্বাধীনতার আদর্শ আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল, সেই আদর্শেই আবার দেশকে জেগে ওঠার ডাক জানাচ্ছি।”
এরপরই তিনি তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। ইউনুসকে সরাসরি ‘মার্ডারার’ ও ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই সরকার পরিকল্পিত ভাবে হিংসা ও দমননীতি চালাচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল এবং তারা আবারও দেশকে “উদ্ধার” করতে বদ্ধপরিকর। তাঁর কথায়, “আমরা আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করতেই ফিরব।”
এই অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা মোট পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন—
-
ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা
-
অবিলম্বে রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ করা
-
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
-
সাংবাদিক ও বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের প্রবণতা বন্ধ করা
-
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার ও দমননীতি বন্ধের দাবি
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে ভারত থেকে শেখ হাসিনার এই অডিও বার্তা শুধু আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের চাঙা করতেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে ফেরাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই অডিও বার্তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।



