হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরতে তৈরি অনাবাসীরাও, কলকাতা থেকে বড় বার্তা

শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনা একদল অনাবাসী বাংলাদেশির। কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়ে তাঁরা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরতে প্রস্তুত বলে জানালেন একদল অনাবাসী বাংলাদেশি। বর্তমানে তাঁদের কয়েকজন কলকাতায় রয়েছেন। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁরা জানান, শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর উপলক্ষে দিল্লি যাবেন এবং পরের দিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার বার্তা দেবেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রয়োজন হলে দেশে ফিরে হাসিনার সঙ্গেই কারাবরণ করতেও তাঁরা প্রস্তুত।

এই অনাবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন গ্রিসের ওয়াদুদ মল্লিক রানা, কানাডার টরন্টোর সারওয়ার হোসেন, মন্ট্রিয়েলের সহিদ রহমান, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের মোল্লা মোহাম্মদ রাশিদুল হক, আমেরিকা প্রবাসী মোহাম্মদ সোয়ালমান আলী এবং মালয়েশিয়ার নাজমুল ইসলাম। তাঁদের কয়েকজন দাবি করেছেন, বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে ফিরতে পারছেন না।

মন্ট্রিয়েলের সহিদ রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের পক্ষে শেখ হাসিনাই এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর বাংলাদেশে এমন শক্তির প্রভাব বেড়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী। তবে এগুলি সহিদ রহমানের রাজনৈতিক বক্তব্য এবং তাঁর নিজস্ব মূল্যায়ন।

অস্ট্রেলিয়ার মোল্লা মোহাম্মদ রাশিদুল হকও একই সুরে বলেন, তাঁরা শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরতে প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অর্জন এবং অসাম্প্রদায়িক চরিত্র বজায় রাখতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন প্রয়োজন। এই বক্তব্যের বাস্তবায়ন কী ভাবে সম্ভব হবে, বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কী আইনি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা জানাননি।

শেখ হাসিনার জন্মদিনকে ঘিরে দিল্লি ও কলকাতায় একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। ২৮ সেপ্টেম্বর দিল্লি যাওয়ার পর ২৯ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। সেখানে তাঁকে তাঁরা বোঝাতে চান, তিনি একা নন এবং বিদেশে থাকা তাঁর সমর্থকেরাও তাঁর পাশে রয়েছেন।

এর পাশাপাশি কলকাতায় একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে। সহিদ রহমানের তৈরি ‘আমি শেখ মুজিবের মেয়ে’ নামে প্রায় ৫০ মিনিটের ছবিটির প্রদর্শন ২৬ সেপ্টেম্বর সল্টলেকের মহানায়ক মঞ্চে হওয়ার কথা। নির্মাতার বক্তব্য অনুযায়ী, ছবিটিতে শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার পরিস্থিতি এবং তার পিছনের ঘটনাগুলি তুলে ধরা হয়েছে। পরে দিল্লিতেও ছবিটির একটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।

টরন্টোর সারওয়ার হোসেন বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, শেখ হাসিনার সময়ে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার বেশি ছিল এবং বর্তমানে তা কমেছে। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, বেকারত্ব এবং চাঁদাবাজি নিয়েও অভিযোগ তোলেন। তবে তাঁর বক্তব্যে যে অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয়েছে, তার স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনে করা হয়নি।

অস্ট্রেলিয়ার বিলকিস জাহানও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে অনেক মানুষ সমাধান হিসেবে দেখছেন। এটিও তাঁর রাজনৈতিক মতামত, কোনও স্বাধীন জনমত সমীক্ষার ফল নয়।

এদিকে শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। তাঁর সমর্থকদের বক্তব্যের বিপরীতে বাংলাদেশে তাঁর সরকারের সময়কার ভূমিকা এবং ২০২৪ সালের ঘটনাবলি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। ফলে বিদেশে থাকা হাসিনা-সমর্থকদের এই কর্মসূচি বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বিতর্কেরই একটি অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে কলকাতায় থাকা অনাবাসী বাংলাদেশিদের বক্তব্যে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার ইচ্ছাই মূল বার্তা হয়ে উঠেছে। আগামী ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে তাঁদের কর্মসূচি এবং ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় তথ্যচিত্র প্রদর্শন—এই দুই কর্মসূচির দিকেই এখন নজর রয়েছে। তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে বাস্তবে তাঁদের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন কী ভাবে সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট রূপরেখা তাঁরা দেননি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন