শওকত মোল্লা গ্রেফতারের পর শনিবার কলকাতায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল আদালত চত্বর এবং এনআইএ দফতরের আশপাশ। ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে আদালতে তোলার আগে ও পরে বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হল। হাতে মাছ, ডিম নিয়ে এনআইএ অফিসের বাইরে জড়ো হন একদল প্রতিবাদকারী, অন্যদিকে আদালত চত্বরে ওঠে ফাঁসির দাবিও।
ভাঙড়ের বোমা বিস্ফোরণ মামলায় শুক্রবার রাতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করে। শনিবার তাঁকে কলকাতার নগরদায়রা আদালতে হাজির করানোর জন্য নিউ টাউনের এনআইএ দফতর থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।


সকালের পর থেকেই এনআইএ কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হতে থাকেন শওকতবিরোধীরা। প্রতিবাদকারীদের কারও হাতে ছিল মাছ, কারও হাতে ডিম। শওকতকে বাইরে আনা হলে তা ছুড়ে বিক্ষোভ দেখানোর প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তাঁরা।
বিক্ষোভস্থলে ‘মাছ চোর’ গান বাজিয়ে প্রতিবাদ জানানোর ঘটনাও নজরে আসে। শওকতকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা যে এখনও তুঙ্গে, সেই ছবিই স্পষ্ট হয়ে ওঠে এনআইএ অফিস চত্বরে।
দুপুরে তদন্তকারীরা শওকতকে নিয়ে প্রথমে বিধাননগর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যান। এনআইএ-র গাড়ি বের হতেই বিক্ষোভকারীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। কয়েকজনকে গাড়ির পিছনে দৌড়াতেও দেখা যায়।


স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে শওকতকে নিয়ে নগরদায়রা আদালতের উদ্দেশে রওনা দেয় এনআইএ। আদালত চত্বরে তখনও চলছিল বিক্ষোভ। সেখানে উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের একাংশ প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও অত্যাচারের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তাঁদের দাবি, বহু ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মেলেনি। সেই কারণেই শওকতের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা।
এদিকে তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই শওকতকে খোঁজা হচ্ছিল। কয়েকদিন আগে তাঁকে ‘ফেরার’ বলেও ঘোষণা করা হয়েছিল।
তদন্ত চলাকালীন তাঁর বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনার অভিযোগও সামনে আসে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকায় তাঁকে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে তিনি সেখান থেকে সরে যান বলে অভিযোগ।
অবশেষে শুক্রবার চিংড়িঘাটা এলাকা থেকে শওকতকে গ্রেফতার করে এনআইএ। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রের দাবি, তিনি আত্মসমর্পণের উদ্দেশ্যে এনআইএ কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন, সেই সময়ই তাঁকে আটক করা হয়।
ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এর প্রভাব বাড়ছে। আদালতে শওকতের পেশ এবং তাকে ঘিরে বিক্ষোভ প্রমাণ করে, এই মামলাকে ঘিরে উত্তেজনা এখনও তীব্র।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



