নজরবন্দি ব্যুরো: ভয়ঙ্কর বন্যায় ভাসছে দেশ, ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে খাদ্যসঙ্কটও। ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানিয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার রাতেই অর্থমন্ত্রী মিফতা ইসমাইল জানিয়েছিলেন যে, একাধিক দেশ থেকে খাদ্যসামগ্রী আমদানি করা হবে। এই তালিকায় ভারতেরও নাম রয়েছে। তবে ভারতের থেকে খাদ্যসামগ্রী আমদানি করা হবে কিনা, তা আগে চিন্তাভাবনা করে দেখা হবে।
আরও পড়ুন: বর্ষণের জেরে বন্যায় বিধ্বস্ত পাকিস্তান, পাশে দাঁড়াবে ভারত? ভাবনা চিন্তা শুরু
মঙ্গলবার জম্বু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে শাহবাজ শরিফ বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমদানি-রফতানির সম্পর্ক নিয়ে কোনও সমস্যাই হত না, কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরে যেভাবে গণহত্যা চলছে এবং কাশ্মীরিদের যেভাবে নিজেদের অধিকার পেতে দেওয়া হচ্ছে না।”শুধু তাই নয় তিনি আরও জানান, কাশ্মীরে হত্যালীলা চালাচ্ছে ভারত, শুধুমাত্র সেই কারণেই ভারতের থেকে সাহায্য নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন শরিফ। তবে শরিফের এই মন্তব্যের কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি ভারতের তরফ থেকে।

এরপরই তিনি সুর নরম করে বলেন, “তবে আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আমরা যুদ্ধ করতে পারব না। আমাদের যেটুকু সম্পদ আছে, তা নিজেদের দেশের জনগণের উন্নতি ও দারিদ্র দূরীকরণেই ব্যয় করতে হবে। তবে সমস্যা না মেটানো হলে, আমরা কেউই শান্তিতে সহাবস্থান করতে পারব না। এই পরিস্থিতিতে আমাদের রাজনীতি করা উচিত নয় কিন্তু এটা সত্য় যে ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে… আমরা ওই অঞ্চলে শান্তি চাই। আমরা স্বেচ্ছায় প্রতিবেশী হইনি।”
‘ভাঙব তবু মচকাবো না’, বন্যা বিধ্বস্ত পাকিস্তান নেবে না ভারতের সাহায্য জানলেন শরিফ

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় ১,১০০ জনের প্রাণ গিয়েছে। দেশের ৩ কোটিরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। যা দেশের মোট জনসংখ্যার এক-সপ্তাংশ। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার ভারত পাকিস্তানকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সাহায্য করতে চলেছে। এর আগে ২০১০ সালে ভয়াবহ বন্যা এবং ২০০৫ সালে ভূমিকম্পের কারণে ক্ষয়ক্ষতি থেকে পাকিস্তানকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ইউপিএ সরকার।



