নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিজেপির অন্দরে ক্রমাগত বাড়ছে অস্বস্তির বাতাবরণ। কারণ শনিবার বিক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর রবিবার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে সর্বভারতীয় মতুয়া মহাসঙ্ঘের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক সারলেন শান্তনু ঠাকুর। সূত্রের খবর, আগামী দিনে সিএএ কার্যকর নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন শান্তনু। সেইসঙ্গে দেশজুড়ে আন্দোলনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
আরও পড়ুনঃ ‘তৃণমূলের থেকে অভিষেক আলাদা’, কল্যাণ কে তুলোধোনা দিলীপ ঘোষের।


এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া, গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর ও রানাঘাট দক্ষিণের বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী। তিন জনেই মতুয়া মহাসঙ্ঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ছিলেন কিছু দিন আগে বিজেপির সংগঠন নিয়ে অসন্তোষ হওয়া দুই নেতা অসীম সরকার এবং অম্বিকা রায়।
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে সিএএ নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে প্রশ্ন করবেন শান্তনু ঠাকুররা। একইসঙ্গে আগামী দিনে কী হবে বিক্ষুব্ধ নেতাদের স্ট্র্যাট্রেজি? তা নিয়েও আলোচনা হয় এদিনের বৈঠকে। যদিও বৈঠকের শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, “এটা সাংগঠনিক বৈঠক ছিল। রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। জেলায় জেলায় সংগঠন কী ভাবে কাজ, তাই নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে।’’



উল্লেখ্য, রবিবারেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের অতিথিশালায় হবে বৈঠক। সেই বৈঠকের পর সংগঠন নিয়ে রাজ্য সভাপতি অমিতাভ চক্রবর্তীর ওপর ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। এবার মতুয়া নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে কী বড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন শান্তনু? তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজেপির অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, দলের রাজ্য কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিজেপিতে ক্ষোভের উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছিল। এরপর জেলা সভাপতির পদ থেকে বাদ পড়ার পরেই বিজেপি নেতাদের মধ্যে বিক্ষোভ বাড়তে শুরু করে। মুলত সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছিলেন মতুয়া সমাজের বিধায়করা। প্রথমে উত্তর ২৪ পরগণা এবং নদীয়া থেকে ৫ জন বিধায়ক হোয়াটাসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়েন।
মতুয়া মহাসঙ্ঘের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে শান্তনু, আরও চওড়া হচ্ছে ফাটল

সেই তালিকায় ছিলেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কির্তনীয়া, গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর, হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার, রাণাঘাটের বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী এবং কল্যাণীর বিধায়ক অম্বিকা রায়। পাঁচ বিধায়কের থেকে বিজেপির দূরত্ব যেন মতুয়াদের ক্রমবর্ধমান বলে মনে হচ্ছিল। একইসঙ্গে বিজেপিতে ক্ষোভ দেখাতে শুরু করলেন বাঁকুড়ার চার বিধায়ক। তাঁরা হলেন,বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা, ওন্দার বিধায়ক অমরনাথ শাখা, সোনামুখীর বিধায়ক দিবাকর ঘরামি এবং ইন্দাসের বিধায়ক নির্মল ধাড়া। সম্প্রতি বিজেপির সমস্ত গ্রুপ থেকে অব্যহতি নেন বিজেপি বিধায়ক হীরন চট্টোপাধ্যায়। এবার কতজন বিজেপি থেকে অব্যহতি নেন? তা দেখার বিষয়।







