নজরবন্দি ব্যুরোঃ নাগরিকত্ব কার্ড নিয়ে ফের প্রশ্ন শান্তনুর, অস্বস্তি বাড়াচ্ছে বিজেপির অন্দরের। দলবদলের রাজনিতিতে বিজেপির অস্বস্তি বাড়াল বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে তত বাড়ছে রাজনৈতিক টানাপোড়ন। এসবের মাঝে শান্তনু ঠাকুর দাবি করেন এবার কেন্দ্রকে স্পষ্ট করতে হবে মাতুয়ারা নাগরিকত্ব কার্ড কবে পাবেন হাতে। প্রথম থেকেই শান্তনু ঠাকুর দাবি করছিলেন মাতুয়াদের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে। বারবার নানা সভ মঞ্চ থেকে একই কথা বলতে শোনা গেছে তাঁকে। রবিবার বিকেলেও নদিয়ায় মতুয়াদের এক অনুষ্ঠান শেষে শান্তনু ঠাকুর বলেন, ‘আমি যেমন বিজেপি সাংসদ, সেই সঙ্গে আমি মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি। তাই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য সরকারের কাছে আমাদের দাবি, মানুষ কবে নাগরিকত্ব কার্ড পাবেন, সেটা স্পষ্ট করা হোক।’
আরও পরুনঃঘরে পদ্ম ফোটাতেই কি মমতার ‘হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম ‘ সভা এড়াচ্ছেন শিশির – দিব্যেন্দু?


কয়েকদিন আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাবিবপুরের ছাতিমতলার মাঠে এক জনসভায় জানান ‘মতুয়ারা সবাই দেশের নাগরিক। বিজেপি মতুয়াদের মোয়া খাওয়াচ্ছে।’ সেই প্রসঙ্গে শান্তনু ঠাকুর বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব আইন জানেন না। জানা বাধ্যতামূলক নয়ও। ১৯৫০ সালের পরে কেউ যদি ভারতে জন্মগ্রহণ না করেন, তাহলে তাদের ছেলেমেয়েরা নাগরিকত্ব পাবে না, সেটা ২০০৩ সালের আইনে বের হয়।২০০৩ সালে যে নতুন আইন করা হয়েছে, সেই আইনের রূপায়ণ করার দাবি নিয়ে বারবার শান্তনু দাবি জানিয়েছেন কেন্দ্রের কাছে। কেন্দ্র ও বারবার আশ্বাস দিয়েছেন আইন আনার বিষয়ে। কয়েকদিন আগে মমতার মন্তব্য প্রসঙ্গে শান্তনু এও বলেন মুখ্যমন্ত্রী অনেক বিষয় এড়িয়ে যাচ্ছেন , উনি তো সারা জীবন এই মানুষদের দায়িত্ব নেবেন না। তাহলে উনি এই কথা বলেন কী করে? ক্ষনিকের রাজনৈতিক স্বার্থে? এই মানুষগুলো সংবিধানগত জায়গা থেকে যদি স্বীকৃতি না পান, তখন কী হবে?’
নাগরিকত্ব কার্ড নিয়ে ফের প্রশ্ন শান্তনুর, অস্বস্তি বাড়াচ্ছে বিজেপির অন্দরের। বারবার নাগরিকত্ব ইস্যুতে মুখ খুলেছেন শান্তনু ঠাকুর। আগামী ৩০ সে জানুয়ারি ঠাকুরনগরে সভা করার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। বিজেপির সভায় বেশি পরিমান মতুয়া জনগন জড়ো করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে মতুয়া জাগরণী সভার আয়োজন করা হয়েছিল শান্তিপুরে। এই বিষয় নিয়ে শান্তনু ঠাকুরের পাশে দাঁড়িয়েছেন মতুয়া মহাসঙ্ঘের নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মুকুটমণি অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন ”ইতিমধ্যেই এই ধরনের ১৮টি সভা রাজ্যে করা হয়েছে। সিএএ নিয়ে আমরা যেমন রাজ্য সরকারকে চাপ দিচ্ছি, তেমনই কেন্দ্র সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। আমাদের দাবি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন বলবৎ করতে হবে। ওই আইন বলবতের বিরুদ্ধে যে কোন অশুভ শক্তিকে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা মতুয়া মহাসংঘ রাখে।” কার্যত নাগরিকত্ব আইনের সুত্রেই বেশ কয়েকবার বিজেপির সাথে তাল কাটছে শান্তনু ঠাকুরের।







