নজরবন্দি ব্যুরো : বাংলায় এখন পাল্লা দিয়ে চলছে দলবদল আর পাল্লা দিয়ে চলছে মিটিং মিছিল। আর নেতা মন্ত্রীদের এই দলবদলে হতবাক সাধারণ মানুষ শুধু গুনছেন কার সভায় কত জন সমাগম, আর সেই ভাবে হিসেব করছেন আগামী নির্বাচন জিতে মসনদে আসতে পারে কোন দল। এছাড়া উপায় ই বা কী? যেভাবে প্রতি বেলাতে বাংলায় চলছে দলবদল আর মিটিং মিছিলের কর্মসূচী, তাতে খানিক বিস্মিতই বাংলার মানুষ।
আরও পড়ুনঃ তাণ্ডব নির্মাতাদের ক্ষমা চাইতে হবে, অন্যথায় জুতো মারার নিদান দিলেন বিজেপি বিধায়ক।


গত মাসে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন একদা তৃণমূলের বেশ হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারি। শুধু একা যাননি,একসাথে একই সভা মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যান একগুচ্ছ তৃণমুলের নেতা মন্ত্রীও। এবং আশ্চর্য ভাবে এতবছর দলে থাকার পর হঠাৎ করেই সবাই অভিযোগ করেন তৃনমূল দলের কাঠামো থেকে কার্যচালনা সবকিছুর ওপর। দীর্ঘদিন তৃণমুলের মন্ত্রী থাকার পর, মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম কে বলা হতো শুভেন্দু অধিকারীর গড়। সেই শুভেন্দুর দলত্যাগের পর এই মুহূর্তে বাংলা ভোটে নন্দীগ্রাম হয়ে উঠছে কেন্দ্রবিন্দু।
মানুষ সভা দেখে হিসেব কষছেন নন্দীগ্রাম তৃণমুলের থাকবে নাকি শুভেন্দুর সঙ্গে যাবে বিজেপিতে? ২০১১ তে নির্বাচনের আগে বিরোধী দল থেকে শাসক দলের রাস্তায় তৃণমূলকে সবথেকে বেশি সাহায্য করেছিল নন্দীগ্রাম আন্দোলন। তার পর মমতার তৎকালীন একনিষ্ঠ সঙ্গী শুভেন্দু অধিকারীর গড় নামে পরিচিত ছিল নন্দীগ্রাম। এবার গ্লপো অন্য। প্রতিবারের মতো এবারও ৭ই জানুয়ারি নন্দীগ্রামে শহিদ দিবসে যান শুভেন্দু অধিকারী। ওইদিন নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয় নেতা অখিল গিরির কোরোনা পজেটিভের কারণে হয়ে ওঠেনি সেই সভা, তাই এবার চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে, জানুয়ারি ১৮ তে নন্দীগ্রামে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
আর এই মুহূর্তে রাজ্যের সবথেকে বেশি হাইভোল্টেজ সভা বোধ হয় ১৮ এর মমতার নন্দীগ্রাম সভাই। শুভেন্দুর দলত্যাগ এর পর এই প্রথম নন্দীগ্রামে যাচ্ছেন মূখ্যমন্ত্রী। এর আগে সেখানে শুভেন্দু সভা করলেও তাতে নন্দীগ্রামের মানুষ বিশেষ সাড়া দেয়নি বলেই জানিয়েছিল স্থানীয় মানুষ। এমনিতেও ইতিমধ্যে নন্দীগ্রামে সভা করা একাধিক তৃণমূলের নেতকর্মী জানিয়েছেন নন্দীগ্রাম আন্দোলন ছিল স্থানীয়দের,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী এসেছিলেন মমতার হাত ধরেই। তাই নন্দীগ্রামের মানুষ ভুল করবেন না।


এই চরম পরিস্থিতিতে একে একে বদলে যাচ্ছে পারিবারিক সমীকরণ ও। অধিকারী পরিবারের অনেক সদস্যই এতদিন তৃণমূলের কোনো না কোন পদে ছিলেন। এনিয়ে প্রথম জল্পনা তৈরি হয়েছিল শুভেন্দু দলত্যাগ করার পরই। তখনও শুভেন্দুর ‘পদ্ম ফোঁটানোর” জল্পনা টিকিয়ে রেখেছিলেন অধিকারী পরিবারের বাকি সদস্যরা। তবে ঘাস ফুল থেকে পদ্ম ফুটতেও বেশি সময় লাগেনি। কয়েকদিন আগেই মেদিনীপুরের জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সাংসদ শিশির অধিকারীকে। এমনিতেও বারবার শুভেন্দু কে নানা কটূক্তি করার প্রতিবাদও করেছিলেন তাঁর বাবা। এবার আরো একধাপ এগিয়ে বিজেপি যোগের জল্পনা উস্কে দিলেন শিশির , দিব্যেন্দু। সূত্রের খবর আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রী যেখানে সভা করবেন সেই সংসদীয় এলাকা সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীর। কিন্তু সেখানে শিশির বা দিব্যেন্দু দুজনের কেউই থাকবেন না উপস্থিত। এবিষয়ে জানতে চাইলে শিশির ঘনিষ্ঠ এক নেতা জানান তাঁরা এখন বাতিলের দলে, মমতার সভা নিয়ে দলের তরফ থেকে কোনরকম যোগাযোগ করা হয়নি, তাই এখনও সভায় যাওয়ায় কথা ভাবছেন না তাঁরা কেউই।
তবে আগামী কাল তৃণমূল সুপ্রিমোর সভায় অধিকারী পরিবারের দুজনের অনুপস্থিতি কিন্তু মনে করিয়ে দিচ্ছে সভা মঞ্চ থেকে শুভেন্দুর কথা,“এখনও তো বাসন্তী পুজোটা আসেনি, রামনবমী আসেনি। রামনবমীটা আসতে দিন। আমার বাড়ির লোকেরাও পদ্ম ফোটাবে। শুধু আমার বাড়ির লোক কেন? হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ঢুকেও পদ্ম ফুটিয়ে আসব।” সূত্রের খবর চলতি মাসে অমিত শাহের বাংলা সফরের সভামঞ্চে অধিকারী পরিবারের একদা তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী পা দেবেন পদ্মবনে। ভোটের আগে মিছিলের পাল্টা মিছিল করছে প্রত্যেক দলই। জনজয়ারের জল মাপতে একই জায়গায় গায়ে গায়ে সভা মিছিল করছে শাসক – বিরোধী দল। ১৮ই মমতার নন্দীগ্রাম সভার পাল্টা সভা করতে ১৯ এই নন্দীগ্রাম যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী এবং বাবুল সুপ্রিয়।









