আর জি করের ‘অভয়া কাণ্ড’ নিয়ে ফের তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এবার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সদ্য পদত্যাগী তৃণমূল নেতা ও আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তনী চিকিৎসক শান্তনু সেন। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় একা ছিলেন না, ঘটনার পিছনে আরও প্রভাবশালীদের যোগ রয়েছে। এমনকি ‘উত্তরবঙ্গ লবি’রও বড় ভূমিকা ছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে শান্তনু সেন দাবি করেন, “আমি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ডিএনএ রিপোর্ট খুব ভালো করে দেখেছি। সেখানে স্পষ্ট অনেক তথ্য রয়েছে। দরকার হলে তদন্তে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ দিয়ে সহযোগিতা করব।” তাঁর অভিযোগ, অতীতেও তদন্তে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু তা গুরুত্ব পায়নি।
শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নামও উল্লেখ করেছেন শান্তনু। তাঁর নিশানায় রয়েছেন কলকাতার মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ, চিকিৎসক-বিধায়ক ডাঃ সুদীপ্ত রায় এবং আর জি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ ডাঃ সন্দীপ ঘোষ।
শান্তনুর কথায়, দ্বিতীয়বার রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই তিনি আর জি করে “ভয়ংকর আঁতাঁত”-এর আভাস পেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, আর্থিক দুর্নীতি ও নানা বেআইনি কাজের বিষয়ে তিনি নবান্নের শীর্ষ নেতৃত্বকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং তাঁকে চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে নিজের পরিবারের কথাও তুলে ধরেন শান্তনু সেন। তিনি জানান, তাঁর মেয়ে তখন আর জি করে এমবিবিএস পড়তেন। অভিযোগ, সেই সময় কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষের তরফে তাঁর মেয়েকে ভয় দেখানো হত এবং নানা ভাবে চাপ তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি সহপাঠীদেরও দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
শান্তনুর বক্তব্য, “আমার মেয়ে বাড়ি থেকে যাতায়াত করত বলেই হয়তো পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়নি। এমবিবিএস শেষ হওয়ার পর সার্টিফিকেট আটকে দেওয়ার ভয়ও ছিল।” তাঁর অভিযোগ, এসবের পরেও তিনি দলকে বারবার আর জি করের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে সতর্ক করেছিলেন।
উল্লেখ্য, অভয়া কাণ্ডে মৃতার পরিবারও শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল, শুধুমাত্র সঞ্জয় রায় নন, ঘটনার পিছনে আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগ রয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন করে আর জি কর ফাইল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই আবহে শান্তনু সেনের এই বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক চাপ বাড়াল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



