“মৃত্যু ডেকে আনি নিজের ঘরে?” সমাজের কঠিন অসুখে এই প্রশ্ন সামনে রেখে চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ না কি এ শরীরে পাপের বীজাণুতে
কোনোই ত্রাণ নেই ভবিষ্যের
মৃত্যু ডেকে আনি নিজের ঘরে ?

আজ থেকে বহু বছর আগে এই কবিতা লিখেছিলেন তিনি। আর আজ অদ্ভুত সমাপতন! এই কঠিন পরিস্থিতি, কঠিন অসুখের সময়ে এই লাইনগুলো  বড্ড বেশি সত্যি হয়ে উঠে এলো, ঠিক আজকের দিনের প্রেক্ষিতে নিজের এই লাইনগুলোর সামনে দাঁড় করিয়ে চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ। প্রশ্ন রেখে বলে গেলেন উত্তর খুঁজতে, এই পরিস্থিতিতে থেকে বাঁচার এবং প্রিয় জনদের বাঁচিয়ে রাখার।

আর পড়ুনঃ করোনা আক্রান্ত সুজন চক্রবর্তী! ভর্তি রয়েছেন হাসপাতলে।

শক্তি-সুনীল-শঙ্খ-উত্‍পল-বিনয়, জীবনানন্দ পরবর্তী বাংলা কবিতার হাল ধরেছিলেন তাঁরা। তাঁদের লাইন জুড়ে ছড়ানো স্বপ্ন কুড়িয়ে বেঁচে থেকছে হাজার হাজার মানুষ। সেই স্বপ্নের, ভাবনার কারিগরদের বাকি চার জন চলে গিয়েছিলেন আগেই। ছিলেন শুধু একজন। আজ চলে গেলেন শঙ্খবাবুও।

শরীরে মৃদু উপসর্গ ছিলোই, গায়ে জ্বর থাকায়, করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন গত সপ্তাহে। ১৪ এপ্রিল বিকেলে রিপোর্ট এলে জানা যায়,ভাইরাস বাসা বেঁধেছে তাঁর শরীরে। ৮৯ বছরের একজন মানুষ। শরীরের বার্ধক্য জনিত একাধিক সমস্যা। তার সঙ্গে এই ভাইরাস। কোভিড সংক্রমণ ধরা পরার পর ঝুঁকি না নিয়ে বাড়িতেই আইসোলেশনে ছিলেন।

তবে মঙ্গলবার রাতে আচমকাই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। বুধবার সকালে তাঁকে ভেন্টিলেটরে দেওয়া হয়। সমস্ত প্রচেস্টার পরও বিফল হতে থাকে। বেলা ১১.৩০ নাগাদ খুলে নেওয়া হয় ভেন্টিলেটর। স্ত্রী প্রতিমা দেবীও। ঘরেই হোম আইসোলেশনে চিকিৎসারত রয়েছেন তিনি।

বাংলা সাহিত্য জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি নিজের লেখনীর মাধ্যমে। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে একাধিক সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন। ১৯৭৭ সালে ‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থটির জন্য তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান। ১৯৯৯ সালে কন্নড় ভাষা থেকে বাংলায় ‘রক্তকল্যাণ’ নাটকটি অনুবাদ করেও সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান তিনি। এ ছাড়াও রবীন্দ্র পুরস্কার, সরস্বতী সম্মান, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছেন লেখনীর কারণে। ২০১১ সালে তাঁকে পদ্মভূষণে সম্মানিত করে তত্‍কালীন কেন্দ্রীয় সরকার।

বিভিন্ন সময়ে সময়োপযোগী একাধিক রচনার কারণে রাষ্ট্রের রোষের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। তবে কখনোই থামিয়ে দেওয়া যায়নি তাঁর কলমকে। এবার সবকিছুকে থামিয়ে দিয়ে চলে গেলেন তিনি। কবির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘শঙ্খদার মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করছি। তাঁর পরিবার এবং শুভানুধ্যায়ীদের সকলকে সমবেদনা জানাই। কোভিডে মারা গিয়েছেন শঙ্খদা। তা সত্ত্বেও যাতে রাষ্ট্রীয় সম্মানের সঙ্গে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়, মুখ্যসচিবকে তেমন নির্দেশ দিয়েছি। তবে শঙ্খদা গান স্যালুট পছন্দ করতেন না। সেটা বাদ রাখছি।’

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর