স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে HPV টিকাকরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং রাজ্যের সকল মানুষের জন্য কাজ করবে।
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে শমীক ভট্টাচার্য জানান, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর কথায়, স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতিত্বের জায়গা থাকা উচিত নয়।
বিশেষ করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে পরিচালিত হবে না। বদলি বা অন্যান্য সরকারি নির্দেশ শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনেই হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
শমীকের বক্তব্য, সরকারকে সরকার হিসেবেই কাজ করতে হবে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখাই অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিন তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের উপরও জোর দেন। কোনও হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনিয়ম, পরিষেবার ঘাটতি বা প্রশাসনিক সমস্যার অভিযোগ থাকলে নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, জনসাধারণের মতামত ও অভিযোগ প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করবে।
স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে অতীতের বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, একসময় পোলিও টিকাকরণ বা পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নে নানা সামাজিক বাধা ও ভুল ধারণার মুখোমুখি হতে হয়েছিল প্রশাসনকে। কিন্তু সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেই বাধা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
এর পাশাপাশি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সামনে আনেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তিনি মনে করেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরও কার্যকর নীতি গ্রহণ করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর উপরই নির্ভর করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।
স্বাস্থ্য, প্রশাসন ও জনসংখ্যা নীতি— এই তিনটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখে শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে সরকার এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।



