রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কদের জন্য বড় সিদ্ধান্তের পথে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সরকার। দীর্ঘদিনের দাবিতে সাড়া দিয়ে এবার তাঁদের মাসিক পেনশন প্রায় দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রাক্তন বিধায়কদের ন্যূনতম পেনশন ৮ হাজার থেকে বেড়ে ১২ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ পেনশন ১২ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা হতে পারে। এর পাশাপাশি ৬ হাজার টাকার চিকিৎসা ভাতাও আপাতত বহাল থাকছে।
প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিধায়কদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমানে যে হারে পেনশন দেওয়া হয়, তা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় যথেষ্ট কম। বিশেষ করে দীর্ঘদিন জনজীবনে থাকার পর অবসর নেওয়া প্রাক্তন বিধায়কদের ক্ষেত্রে বর্তমান পেনশনের অঙ্ক দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তুলনায় মহারাষ্ট্রে প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ঝাড়খণ্ডে পেনশনের অঙ্ক ৪০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। উত্তরাখণ্ড ও কর্নাটকেও প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন বাংলার তুলনায় অনেকটাই বেশি। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে এতদিন প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক পেনশন ছিল ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা।
এর সঙ্গে অবশ্য ৬ হাজার টাকা করে চিকিৎসা ভাতা যোগ হয়। অর্থাৎ সব মিলিয়ে এতদিন প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক প্রাপ্য দাঁড়াত ১৪ থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে। কিন্তু অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে তুলনা করলে এই অঙ্ক যথেষ্ট কম বলেই দাবি করে আসছিলেন প্রাক্তন বিধায়কদের একাংশ।
পেনশন বৃদ্ধির দাবি অবশ্য নতুন নয়। আগের সরকারের আমল থেকেই এই বিষয়ে একাধিকবার দাবি জানানো হয়েছিল। এমনকি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকার সময়ও বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সরকার বদলের পর ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে প্রাক্তন বিধায়কদের সংগঠন। নতুন সরকারের কাছে পেনশন বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী এবং বিধানসভার অধ্যক্ষের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন প্রাক্তন বিধায়কদের প্রতিনিধিরা। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই দাবির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে সূত্রের খবর।
এরপরই পেনশন বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এবার থেকে প্রাক্তন বিধায়কদের ন্যূনতম মাসিক পেনশন হতে পারে ১২ হাজার টাকা। অন্যদিকে সর্বোচ্চ পেনশনের অঙ্ক বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান কাঠামোর তুলনায় সর্বোচ্চ পেনশনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হতে চলেছে।
শুধু পেনশন নয়, চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও আপাতত পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই। বর্তমানে যে ৬ হাজার টাকা করে মেডিক্যাল ভাতা পান প্রাক্তন বিধায়কেরা, সেটিই বহাল থাকতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাঁদের জন্য আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে বলে সূত্রের খবর।
পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষও (Shankar Ghosh) বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রাক্তন বিধায়কদের এই দাবির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বরাবরই সংবেদনশীল। বিরোধী দলনেতা থাকার সময়ও তিনি বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।
শংকর ঘোষ জানিয়েছেন, প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিষদীয় দপ্তরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অর্থদপ্তরে। যেহেতু বিষয়টির সঙ্গে আইনগত প্রক্রিয়া জড়িত, তাই আগামী দিনে প্রয়োজনীয় আইন আনার পথে সরকার এগোবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ফলে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক আর্থিক সুবিধায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে পেনশন প্রায় দ্বিগুণ করার উদ্যোগ বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর প্রাক্তন বিধায়ক এবং রাজনৈতিক মহলের।



