বাংলার ক্রিকেটে যে তরুণকে একসময় ভবিষ্যতের ভারতীয় তারকা হিসেবে দেখা হয়েছিল, তাঁর কেরিয়ারই এখন বড় প্রশ্নের মুখে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিষেক পোড়েলকে গ্রেপ্তার করেছে মগরা থানার পুলিশ। চুঁচুড়া আদালত তাঁকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে প্রশ্ন—আগামী দিনে বাংলার হয়ে কি খেলতে পারবেন অভিষেক? তাঁর আইপিএল ভবিষ্যৎই বা কী হবে?
অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন এক ডাক্তারি পড়ুয়া তরুণী। গত ২৩ জুন মগরা থানায় অভিযোগ জানান তিনি। অভিযোগকারিণীর দাবি, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অভিষেকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক চলাকালীন দু’জনে একসঙ্গে বিদেশেও গিয়েছিলেন। তবে প্রায় দেড় বছর আগে সেই সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।
পরবর্তীকালে পরিস্থিতির অবনতি হলে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই তরুণী। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে মগরা থানার পুলিশ। তদন্তের প্রয়োজনে একাধিকবার চন্দননগরে অভিষেকের বাড়িতেও যায় পুলিশ। অভিযোগ, সেই সময় গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছিলেন ক্রিকেটার।
এরপর কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)-এর দ্বারস্থ হন অভিযোগকারিণী। আদালতের নির্দেশের পরই অভিষেককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। আইটি অ্যাক্টের ৬৬/৭২ ধারাতেও মামলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সোমবার আদালতে পেশ করা হলে অভিষেককে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া মানেই আদালতে দোষ প্রমাণিত হওয়া নয়। মামলার তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারিত হবে।
অভিষেকের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বঙ্গ ক্রিকেটমহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। কারণ, কয়েক বছর ধরেই তাঁকে বাংলার অন্যতম প্রতিশ্রুতিমান ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটা সময় তাঁকে ভবিষ্যতের ভারতীয় দলের সম্ভাব্য মুখ হিসেবেও দেখেছিলেন ক্রিকেটমহলের অনেকে।
আইপিএলেও ইতিমধ্যে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন অভিষেক। দিল্লি ক্যাপিটালসের (Delhi Capitals) হয়ে বেশ কয়েকটি মরসুম খেলেছেন তিনি। গত মরসুমে তাঁকে ধরে রেখেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ফলে আগামী মরসুমেও দিল্লির জার্সিতে তাঁকে দেখা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সমীকরণ বদলে যেতে পারে কি না, তা নিয়েই জল্পনা শুরু হয়েছে।
বাংলার ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়েও একই প্রশ্ন উঠছে। আর কয়েক মাসের মধ্যেই শুরু হবে নতুন ঘরোয়া ক্রিকেট মরসুম। সেই সময় অভিষেককে বাংলার হয়ে মাঠে নামানো হবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে ক্রিকেটমহলে। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (CAB)-এর অবস্থানও তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যা জানা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে অভিষেককে নিয়ে তড়িঘড়ি কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটছে না সিএবি। মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক ধরনের সিদ্ধান্ত এবং পরিস্থিতি ভিন্ন হলে অন্য অবস্থান নেওয়া হতে পারে বলেই সূত্রের খবর।
দিল্লি ক্যাপিটালসের অবস্থান নিয়েও একই রকম জল্পনা রয়েছে। আগামী আইপিএলের জন্য দল গোছানোর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তরুণ ক্রিকেটার বাছাই করতে বেঙ্গালুরুতে কয়েক দিনের ট্রায়ালও হয়েছে। আরও ট্রায়াল হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সময়েই অভিষেককে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।
বর্তমানে দিল্লির সঙ্গে অভিষেকের চুক্তি রয়েছে এবং গত বছর তাঁকে রিটেইন করা হয়েছিল। সেই হিসেবে আগামী আইপিএলেও তাঁর দিল্লির হয়ে খেলার কথা। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের পর ফ্র্যাঞ্চাইজি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার।
এই মুহূর্তে অবশ্য দিল্লি ক্যাপিটালসও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে বলেই জানা যাচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, অভিষেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে এবং আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হয়—তার উপরই অনেকটা নির্ভর করতে পারে তাঁর ক্রিকেট ভবিষ্যৎ।
অর্থাৎ, আপাতত অভিষেক পোড়েলের ক্রিকেট কেরিয়ারের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমনটা বলার সময় আসেনি। তবে গ্রেপ্তারির পর পরিস্থিতি যে তাঁর ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আইপিএল—দুই ক্ষেত্রেই বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট। আগামী কয়েক সপ্তাহে তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার দিকেই নজর থাকবে বাংলা ক্রিকেটমহলের।




