সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। একদিকে ঘটনার নিন্দা করেছে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূলের অতীত ভূমিকা তুলে ধরে পাল্টা আক্রমণও শানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, বিজেপি সংযম বজায় রেখেছে বলেই আজও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা নিরাপদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারছেন।
শনিবার এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপি কোনওভাবেই রাজনৈতিক হিংসা বা শারীরিক হেনস্থাকে সমর্থন করে না। তবে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীরা রাজ্যে নানা ধরনের অত্যাচারের শিকার হয়েছেন, যার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি।
বিজেপি রাজ্য সভাপতির কথায়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহু ঘটনা অতীতে ঘটেছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, ভয় দেখানো এবং বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সেই সব ঘটনার তুলনায় বিজেপি অনেক বেশি সংযত অবস্থান নিয়েছে।
শমীকের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপি প্রতিশোধের রাজনীতি করেনি বলেই রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, যদি দল অন্যরকম পথ বেছে নিত, তাহলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠতে পারত।
অন্যদিকে সোনারপুরের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, তাঁকে লক্ষ্য করে সংগঠিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীরা তাঁর উপর চড়াও হয় বলে দাবি তৃণমূলের।
অভিষেক জানিয়েছেন, হামলার সময় তাঁর চশমা ভেঙে যায় এবং নিরাপত্তার জন্য তাঁকে হেলমেট পরতে হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ উপস্থিত ছিল না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নিহত কর্মীর বাড়িতে পৌঁছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তিনি এলাকা ছাড়বেন না। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করার কর্মসূচিকে ঘিরে। প্রথমে কামালগাজি এলাকায় তাঁর কনভয়ের সামনে কালো পতাকা দেখানো হয় এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগান ওঠে। পরে গাড়ি ছেড়ে মোটরবাইকে করে গন্তব্যে যাওয়ার সময় বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূল হামলার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে অতীতের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ সামনে আনছে।
সোনারপুরের এই সংঘাত রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন নজর প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং ঘটনার তদন্তের দিকে।



