নজরবন্দি ব্যুরোঃ পুলিশের কাঁদানে গ্যাস, লাঠি, জলকামান! পাল্টা লেবু, মিস্টি ছুড়লেন বাম যুবরা। আহত কমপক্ষে ৫০ বাম সমর্থক, অভিযোগ কৃষি আইনের বিরোধিতায় লক্ষ লক্ষ কৃষককে আটকে দিতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যেমন দিল্লির চারদিকে ব্যারিকেড গড়েছে, অনেকটা সেই আদলেই বাম ছাত্র যুবদের আটকাতে কলকাতায় ব্যারিকেড গড়েছে পুলিশ! সকালে বিধায়ক ইব্রাহিম আলি কিছু বাম সমর্থক নিয়ে পৌঁছে যান নবান্নের অলিন্দে। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই খবর যখন পৌঁছায় তখন দ্বিগুন উৎসাহে মিছিলে এগোতে থাকে ডেরিনা ক্রসিং-এর দিকে।
আরও পড়ুনঃ ‘নাড্ডার সভা গড়ের মাঠ,’ টুইটারে সভার ছবি পোস্ট করে বিজেপি কে কটাক্ষ নুসরতের
ডোরিনা ক্রশিং এলাকায় যে পরপর ব্যারিকেড গড়েছিল পুলিশ। তারই একটি ভেঙে বাম যুবদের মিছিল এগিয়ে যেতে থাকে। মিছিল এগোতেই শুরু হয় লাঠি চার্জ। জলকামান চার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হতেই উত্তপ্ত হয়ে পড়ে পরিস্থিতি। লাঠির ঘায়ে সঙ্গীদের রক্ত ঝরতে দেখে মারমুখী হয়ে ওঠেন বাম কর্মী সমর্থক রা। পুলিশের লাঠির আগাতে রক্ত ঝরে কমপক্ষে ১৫ জন যুব কর্মীর। অন্যদিকে আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশও।
মিছিল আর স্লোগান থামাতে পারেনি পুলিশের জলকামান। মিছিল থেকে পুলিশের উদ্দেশ্যে লেবু, মিস্টি ছোঁড়া হতে থাকে, ওঠে মুহুর্মুহু স্লোগান। “পুলিশ তুমি উর্দি ছাড়, তৃণমূলে ঝান্ডা ধর,” পাশাপাশি স্লোগান ওঠে, “যাহাই নবান্ন তাহাই ছাপ্পান্ন”! বামেদের অভিযোগ, দেড় মাস আগে এই নবান্ন অভিযানের কথা সরকারকে জানানো হয়েছিল। পুলিশ জানে শান্তিপূর্ণ মিছিল হবে। তবুও বিরাট ব্যারিকেড কেন?
কর্মসংস্থান, রাজ্যে নতুন শিল্প, সহ একাধিক দাবিতে আজ নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে ১০টি বাম ছাত্র যুব সংগঠন। হাওড়া ও শিয়ালদা স্টেশন থেকে আজ দুটি মিছিল আসবে কলেজ স্ট্রিটে। তারপর দুপুর ১টায় সেখান থেকেই শুরু হবে নবান্ন অভিযান। পুলিশ এই অভিযানের অনুমতি না দিলেও ছাত্র নেতারা আগেই সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন কর্মসূচী হবেই পুলিশের অনুমতির পরোয়া তারা করছেন না।
তারপর যা ঘটবে তার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ দায়ী থাকবে। সূত্রের খবর, এরপর গতকাল লালবাজার থেকে দুই ডিওয়াইএফআই নেতাকে ডেকে পাঠানো হয়। ওই দুই নেতাকে পুলিশ জানিয়েছে, ডাফরিন রোড পর্যন্ত মিছিল এগোতে দেবে পুলিশ। তারপর আর নয়। নবান্ন অভিয়ান ঘিরে অনভিপ্রেত পরিস্থিতি আটকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।



