সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে শক্তিশালী উত্থান নিয়ে শুরু হল দেশীয় শেয়ার বাজারের লেনদেন। পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই বাজারে ফিরেছে ইতিবাচক মনোভাব, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সেনসেক্স ও নিফটির গতিপথে।
শুক্রবার বাজার খোলার পর থেকেই ক্রেতাদের দাপট চোখে পড়ে। ব্যাংকিং, আইটি, অটো থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের শেয়ারে জোরালো কেনাকাটা দেখা যায়। ফলে সূচকগুলিও দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে।


লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিএসই সেনসেক্স প্রায় ৯৮১ পয়েন্ট লাফিয়ে ৭৪,৮১৪ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। শতাংশের হিসাবে যা প্রায় ১.৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে জাতীয় শেয়ার বাজারের সূচক নিফটি৫০-ও উল্লেখযোগ্য শক্তি প্রদর্শন করে।
এনএসই নিফটি ৫০ সূচক ২৭২ পয়েন্ট বা প্রায় ১.১৭ শতাংশ বেড়ে ২৩,৪৩৪ পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে আপাত স্বস্তি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাব এই উত্থানের অন্যতম প্রধান কারণ।
বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমায় বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। ফলে গত কয়েক দিনের চাপ কাটিয়ে বাজারে নতুন করে গতি ফিরেছে। বিশেষ করে বড় মূলধনী সংস্থা এবং ব্যাংকিং শেয়ারে কেনাকাটার প্রবণতা সূচকের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে এগোয়, তার উপরই বাজারের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে। তবে সপ্তাহের শেষ দিনে যে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন দেখা গেল, তা বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে শুক্রবারের শুরুটা ভারতীয় শেয়ার বাজারের জন্য ইতিবাচক বার্তাই নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ কমার সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় বাজারেও আশাবাদের হাওয়া বইতে শুরু করেছে।



