সপ্তাহের প্রথম দিনেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার। পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সংঘাতের আবহ, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতার জেরে সোমবার সেনসেক্স ও নিফটিতে তীব্র পতন দেখা গিয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগও বেড়েছে।
বাজার খোলার পর থেকেই বিক্রির চাপ স্পষ্ট ছিল। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ৮০০ পয়েন্টেরও বেশি নেমে যায়। একই সঙ্গে নিফটিও গুরুত্বপূর্ণ মানসিক স্তরের নিচে চলে আসে। বড় সংস্থার পাশাপাশি মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ শেয়ারেও ব্যাপক চাপ দেখা যায়, যার প্রভাব পড়ে সামগ্রিক বাজারে।


কেন চাপের মুখে শেয়ার বাজার?
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা
সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইক্যুইটি বাজারে।
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারত তেল আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। এতে আমদানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং বাণিজ্য ঘাটতির উপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব বাজারের নেতিবাচক সংকেত
এশিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকে বড় পতন দেখা গিয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকংয়ের বাজারে বিক্রির চাপ ভারতের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দুর্বল মনোভাব দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও সতর্কতা বাড়িয়েছে।


মার্কিন সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা
মার্কিন অর্থনীতির শক্তিশালী শ্রমবাজারের তথ্য প্রকাশের পর সুদের হার দ্রুত কমার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আচরণেও পরিবর্তন আসতে পারে। সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চস্তরে থাকলে উদীয়মান অর্থনীতির বাজারগুলি চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কোন সেক্টর সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত?
ব্যাংকিং, আইটি, অটো এবং আর্থিক পরিষেবা সংক্রান্ত শেয়ারগুলিতে বিক্রির চাপ বেশি দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে সরকারি ব্যাঙ্ক এবং ফার্মা খাত তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্থিতিশীল থেকেছে। ফলে বাজারের সামগ্রিক পতনের মধ্যেও কয়েকটি সেক্টর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিনের বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার উপর। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সব মিলিয়ে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার জেরে শেয়ার বাজারে স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



