ভারতে কি এবার বদলে যেতে চলেছে টাকার চেহারা? পলিমার নোট চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (RBI)। যদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে কাগজের নোটের বদলে এমন নোট আসতে পারে যা জল, ধুলো বা দৈনন্দিন ব্যবহারে সহজে নষ্ট হবে না। একই সঙ্গে জাল নোটের ঝুঁকিও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত অধিকাংশ নোট তৈরি হয় বিশেষ ধরনের কাগজ দিয়ে। এই কাগজের মূল উপাদান হল তুলা বা কটন ফাইবার। নোট তৈরির সময় জল, রাসায়নিক পদার্থ এবং একাধিক সুরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় যাতে তা দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য থাকে।


তবে বাস্তবে সমস্যা অন্য জায়গায়। নিয়মিত ব্যবহারে হাতের ঘাম, আর্দ্রতা, জল বা বিভিন্ন রাসায়নিকের সংস্পর্শে এসে নোট দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রেই নোট ছিঁড়ে যায় বা এতটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে যে তা বদলাতে হয়।
এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে পলিমার নোট। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিন্থেটিক পলিমার দিয়ে তৈরি এই নোট কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই। জল লাগলেও সহজে নষ্ট হয় না, ধুলো বা আর্দ্রতার প্রভাবও তুলনামূলকভাবে কম পড়ে।
পলিমার নোটের আরেকটি বড় সুবিধা হল এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই নোটে স্বচ্ছ বা সি-থ্রু অংশ, বিশেষ মেটালিক ফিল্ম এবং উন্নত সিকিউরিটি ফিচার ব্যবহার করা হয়। ফলে জাল নোট তৈরি করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।


আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পলিমার ব্যাঙ্কনোটের আয়ু সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি হতে পারে। অর্থাৎ একই নোট দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা সম্ভব, যা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মুদ্রণ ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল বিপুল সংখ্যক নোট মুদ্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নোট বদলের খরচ। পলিমার নোট চালু হলে সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রথম ধাপে পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্প হিসেবে RBI পলিমার নোট বাজারে আনতে পারে। বিশেষ করে ৫০০ টাকার নোট এবং পরে ১০০ টাকার নোটকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।
যদিও এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে পলিমার নোট চালু হলে ভারতের মুদ্রা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী, নিরাপদ এবং কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচের এই নোট ভবিষ্যতে কাগজের নোটের বিকল্প হয়ে উঠবে কি না, এখন সেদিকেই নজর আর্থিক মহলের।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



