নজরবন্দি ব্যুরোঃ ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিধিনিষেধ জারি হল রাজ্যে, করোনার প্রকোপ কমলেও কোনরকম ঝুকি নিতে চাইছে না রাজ্য সরকার। রাজ্যের ভোট পর্বের মাঝে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঢুকে পড়ায় লাগামহীন হয়েগিয়েছিল ভাইরাসের সংক্রমণ। ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল মৃত্যু সংখ্যা। আর তা ঠেকাতে লোকাল ট্রেন, মেট্রো বন্ধ করার পাশাপাশি কার্যত আংশিক লকডাউন জারি করা হয় বাংলায়। এবার সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও বাড়ল।
আরও পড়ুনঃ RSS-এর নির্দেশে বিধানসভায় হিন্দুত্ব প্রদর্শন BJP-তৃণমূলের, বলছেন বিকাশ।
সংক্রমণ দিনে দিনে কমায় একে একে ছাড় মিলেছিল নিয়ম কানুনে। কোভিড বিধি মেনেই খুলছিল রাস্তাঘাট, পরিবহন, দোকান বাজার। লোকাল ট্রেন ছাড়া শর্তসাপেক্ষে চলা শুরু করেছে বাস-মেট্রো। তবে তৃতীয় ঢেউয়ের আগেই ফের কড়া হচ্ছে রাজ্য সরকার। নয়া গাইডলাইনে একটি মাত্র ক্ষেত্রেই ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যে সব কোচিং সেন্টার চলছে রাজ্যে, সেগুলি খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৫০ শতাংশ পড়ুয়া নিয়ে খোলা যাবে সেই কোচিং সেন্টারগুলি। তবে সার্বিকভাবে রাত ১১ টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত নাইট কার্ফু জারি থাকবে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে কোভিড বিধি লঙ্ঘনে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারায় কড়া ব্যবস্থা নেবে সরকার।
মাত্রাছাড়া সংক্রমণের জেরে গত ১৫ মে দুপুর ১২ টা নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যে ১৫ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকার জানিয়েছিল, ১৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত লকডাউন চলবে। পরে, বৃহস্পতিবার ২৭ মে। প্রাথমিক ভাবে ঘোষিত আংশিক লকডাউনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৭২ ঘণ্টা আগেই ফের লকডাউনের মেয়ার বাড়ায় রাজ্য সরকার। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী ১৫ই জুন পর্যন্ত আংশিক লকডাউন জারি ছিল রাজ্য জুড়ে।
পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে করা হয় ১লা জুলাই পর্যন্ত। এই ভাবে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে মেয়াদ। এবার ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিধিনিষেধ জারি হল রাজ্যে। প্রসঙ্গত ৫ মে লকডাউন ঘোষণার দিন রাজ্যে নতুন সংক্রামিতের সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ১০২। মোট কোভিড অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ২১ হাজার ৮৭২। মৃত্যু হয়েছিল ১০৩ জনের। লকডাউনের উদ্দেশ্যই হল সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙা।
১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিধিনিষেধ জারি হল রাজ্যে, বন্ধ থাকছে লোকাল ট্রেন।

সেদিক থেকে দেখতে গেলে গত সাড়ে ৩ মাসে নতুন সংক্রামিতের সংখ্যা কমেছে অনেকটাই। ২৮ অগাস্ট রাজ্য সরকারের বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্য জুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৬১ জন। রাজ্যে এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯ হাজার ১০৯ জন। আজ মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। আজকের বুলেটিন বলছে সুস্থতার হার বেড়ে হয়েছে ৯৮.২২ শতাংশ।



