বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে শিয়ালদহ-এসপ্ল্যানেড মেট্রো রুটের উদ্বোধন প্রক্রিয়া। কলকাতার ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি চালু হলে সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত যাতায়াত হবে সরাসরি ও দ্রুত।
আগামী ২২ আগস্ট কলকাতায় আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রেল মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছে, এই সফরেই তিনি শিয়ালদহ-এসপ্ল্যানেড মেট্রো পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে পারেন। এতে হাওড়া ময়দান থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটারের সম্পূর্ণ রুট কার্যত যাত্রীদের জন্য খুলে যাবে।
মঙ্গলবার সকালে রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান সতীশ কুমার এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন পরিদর্শনে আসেন। সেখান থেকে ভূগর্ভস্থ পথে শিয়ালদহ পর্যন্ত গিয়ে তিনি পুরো প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, যাত্রী নিরাপত্তা এবং জরুরি অবস্থায় বেরোনোর পথের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখেন। এরপর আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি আশ্বাস দেন, খুব শিগগিরই এই রুট চালু হবে।
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের কাজের সময় বউবাজারে বিপর্যয়ের পর এই অংশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছিল। তবে কলকাতা মেট্রো রেলওয়ে কর্পোরেশন লিমিটেড (কেএমআরসিএল) দীর্ঘ প্রচেষ্টায় সেই জট কাটিয়ে কাজ শেষ করেছে। বর্তমানে সেক্টর ফাইভ থেকে শিয়ালদহ (৯.২ কিমি) এবং এসপ্ল্যানেড থেকে হাওড়া ময়দান (৪.৮ কিমি) অংশে মেট্রো চলাচল করছে। মাঝের মাত্র ২.২ কিলোমিটার রুট চালু হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক একসঙ্গে যুক্ত হবে।
সোমবার মেট্রোর ট্র্যাকশন এবং রোলিং স্টকের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক ব্রজমোহন আগরওয়াল শিয়ালদহ থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত রেললাইন ও সিগন্যালিং পরীক্ষা করেন। এরপর মঙ্গলবারের পরিদর্শনে সন্তোষ প্রকাশ করেন রেল বোর্ডের চেয়ারম্যানও। ফলে, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সম্পূর্ণ পরিষেবা শুরু হওয়ার আশা আরও জোরদার হয়েছে।
এই রুট চালু হলে সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দান যেতে সময় লাগবে প্রায় ৩০ মিনিটেরও কম, যা বর্তমানে সড়ক পথে এক ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিয়ালদহ-এসপ্ল্যানেড মেট্রো চালু হলে শুধু যাতায়াতই নয়, কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে।
রেল বোর্ড ও কেএমআরসিএল ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত নিরাপত্তা পরীক্ষার দিকে নজর দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিগন্যালিং সিস্টেমের রিহার্সাল, ট্রেন চলাচলের সময়সূচি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া। সবুজ সংকেত পেলেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা হবে।
মেট্রো আধিকারিকদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে এই ঐতিহাসিক রুটের উদ্বোধন হলে কলকাতার পরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। আর যাত্রীদের কাছে এটি হবে দৈনন্দিন যাতায়াতের এক বড় স্বস্তি।



