নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। এই মুহুর্তে তাঁকে হ্যেয়াফজতে নিয়েছে ইডি। পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল অঙ্কের অর্থ, গয়না এবং বিদেশী মুদ্রা। এবার এবিষয়ে রাজ্যের শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, শিক্ষক দুর্নীতিতে সরাসরি জড়িয়ে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার।
আরও পড়ুনঃ SSC-TET: সমস্ত অপরাধীদের গ্রেফতার করতে হবে, সেই দাবিতে পড়ল পোস্টার


বিষ্ণুপুরের সাংসদের কথায়, ২০১৯ সালে তৃণমূল ছেড়েছিলেন তিনি। তখনই তিনি জানিয়েছিলেন, বিনয় মিশ্রর সঙ্গে স্কুল সার্ভিস কমিশনের দুর্নীতি এবং কয়লা পাচার চক্রের নাম রয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষা ক্ষেতে দুর্নীতি অন্যতম অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায় তখনই ঘোষণা করেছিলেন তিনি।
সরাসরি তোপ দেগেছেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের নেতৃত্বে তৃণমূল ধ্বংস হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোর সঙ্গে পলিটিক্স শিখতে হবে? আমার নামে কাউকে দিয়ে বলানো হচ্ছে। দুই বার সাংসদ হয়েছি, একবার বিধায়ক হয়েছি। তার আগেও কনট্রাক্টর বিজনেজ করতাম। সেই বেতনটা তুলে নে। আমার সম্পত্তি টা তুলে নে। আজও আমার লোন আছে। তোদের কাছ থেকে আমায় শিখতে হবে না। আজও আমার ব্যাঙ্কে ৩৩ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা লোন রয়েছে। সৌমিত্র খাঁ দুর্নীতি করে না। আর কাউকে চাকরী পাইয়ে দিতে পারে না” ।

একবারে নাম উল্লেখ করে বলেন, “বিনয় মিশ্র, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সনকা মেডিকেলের পার্থ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এরা কি করেছে? বিদেশে কী করতে যায় জানেন? ভাইপো বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশে যায় নারী সঙ্গ কাটাতে। আমার বিরুদ্ধে কেস করুন। আমি ভয় পাই না”। একইসঙ্গে বিজেপি সাংসদের কথায়, “দক্ষিণ কলকাতার সমস্ত নেতারাই চোর। প্রত্যেকেই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। আমরা ১০ বছর ধরে এমপি এমএলএ। কেন আমাদের ব্যাঙ্কে এখনও ৫০ লক্ষ টাকা জমা হল না? কিন্তু তাঁদের ঘরে ঘরে কোটি কোটি টাকা”।



তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “তৃণমূল যাকে ব্যবহার করেছে, তাঁকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। মুকুল রায়কে ব্যবহার করেছে ছুঁড়ে ফেলেছে। যে শুভেন্দু অধিকারীর নদনীগ্রামের আন্দোলনের জন্য ওই চেয়ারে বসে রয়েছে, তাঁকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ের জন্য নাবান্নে বসে রয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে কারা চাকরির জন্য তালিকা পাঠিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই আকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় যে চাকরির তালিকা পাঠিয়েছে, তা প্রকাশ করা হোক। পার্থদাকে বলব, আপনি সমস্তটা তুলে ধরুন”।
শিক্ষক দুর্নীতিতে সরাসরি জড়িয়ে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার, ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে

বিজেপি নেতার কথায়, “কালীঘাটের আশেপাশে নেতারা রয়েছে, তারা সকলে গ্রামের মানুষকে ঠকায়। তাঁরা উত্তরবঙ্গের মানুষকে ঠকায়। তাঁরা দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে ঠেকায়। ৫০০ টাকার জন্য নিজেদের ছেলেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেবেন না”।








