নজরবন্দি ব্যুরো: ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে আলাদা একটা অধ্যায় সন্দীপ নন্দী। মোহন- ইস্টের ডার্বি থেকে শুরু করে আইলিগ, কলকাতা লিগ ও ফেডকাপের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। একাধিকবার দস্তানা হাতে দলের নিশ্চিত পতন রুখে দিয়েছেন তিনি। এরপর আইলিগ থেকে আইএসএলে গিয়েও দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ সুভাষ ভৌমিকের মূর্তি বসবে ইস্টবেঙ্গলে, হাতে থাকবে আশিয়ান কাপ!
তবে এবার নতুন দায়িত্ব পেলেন বর্ধমানের এই গোলরক্ষক। এতদিন দস্তানা হাতে শহরের দুই প্রধান তথা ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের জার্সি গায়ে তিন কাঠির দায়িত্ব সামাল দিতে দেখা গেলেও সাদা-কালো তথা মহামেডান স্পোটিংয়ের স্বাদ ছিল অধরা। তবে এবার মহামেডান স্পোটিংয়ের গোলকিপার কোচ হিসেবে যোগ দিতে চলেছেন সন্দীপ নন্দী।
দিনকয়েক আগেই লাল-হলুদে যোগদান করেন মহামেডানের প্রাক্তন গোলকিপার কোচ মিহির সাওয়ান্ত। এবার তাঁর বদলেই দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল বর্ধমানের এই তারকার হাতে। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সুভাষ ভৌমিক তথা ময়দানের পরিচিত ভোম্বলদা র প্রশ্ন তোলায় নজরবন্দি কে সন্দীপ নন্দী বলেন, গত ২০০১ সালে মোহনবাগান থেকে টালিগঞ্জে আসার পর ইস্টবেঙ্গলে আসার সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি, পরবর্তী সময়ে চার্চিল ব্রাদার্সে আশার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সুভাষ ভৌমিক।
তবে দুই প্রধানে খেললেও মহামেডান না খেলার আফসোস কিছুটা হলেও পূরন হয়েছে সাদা-কালো শিবিরের দায়িত্ব পেয়ে। কিন্তু এমন খুশির দিনে সুভাষ ভৌমিকের প্রয়ানে প্রচন্ড মর্মাহত সন্দীপ নন্দী। তবে সুভাষ ভৌমিকের কোচিংয়ের প্রসঙ্গে এই প্রাক্তন গোলরক্ষক বলেন, ” ওনার তেজ, জেদ, স্নেহ, মমতা সমস্ত কিছুই ছিল তাঁর মধ্যে। তাছাড়া খেলোয়াড়দের সঙ্গে যেভাবে মিশতে পারতেন কিংবা খেলোয়াড়দের গাইড করতেন তা সর্বদা মাথায় রেখেই এগোবো।এককথায় ফুটবলে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ”
তবে বর্তমানে যেভাবে ফিনিক্সের মত উঠে এসেছে সাদা-কালো ব্রিগেড সেখানে মিহির সাওয়ান্তের পর তার কাছে এই দায়িত্ব কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে? সেই প্রশ্ন করায় বর্ধমানের এই গোলরক্ষক বলেন, ” মাঠে সবসময়ই চাপ থাকে। তবে খেলোয়াড় ও কোচের ক্ষেত্রে চাপ ভিন্ন রকমের। তবে আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। তাছাড়া আমি সর্বদা চ্যালেঞ্জ নিতেও ভালোবাসি আশা করি আমাদের ছেলেরা ভালো পারফরম্যান্স করবে। ”
সুভাষ ভৌমিকের অবদান অনস্বীকার্য, সাদা-কালোর দায়িত্ব পেয়ে জানালেন সন্দীপ

শেষে মহামেডানের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে সন্দীপ বলেন, আমি খেলোয়াড় জীবনে ইস্টবেঙ্গল -মোহনবাগান দুই প্রধানের সমর্থকদের ই আবেগ, ভালোবাসা পেয়েছি। যদিও মহামেডানের ক্ষেত্রে বিষয়টা একেবারেই অন্য তবে আমি সমস্ত সমর্থকদের আবেগ ও ভালোবাসার মূল্য দেওয়ার চেষ্টা করব।



