সব্যসাচী দত্তের ফ্ল্যাটে তল্লাশি, উদ্ধার সোনা কেনার রাশি রাশি রসিদ! সম্পত্তির উৎস ঘিরে বাড়ছে রহস্য

তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে রাজারহাটের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল সোনা কেনার রসিদ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সব্যসাচী দত্তের ফ্ল্যাটে পুলিশের তল্লাশিতে মিলেছে বিপুল পরিমাণ সোনা কেনার রসিদ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি। রাজারহাটের বিলাসবহুল আবাসনে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হওয়া এই নথিপত্র ঘিরে এখন সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

তোলাবাজি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে রবিবার একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর অফিস, একটি স্থানীয় ক্লাব এবং পরে রাজারহাটের আবাসনে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে সব্যসাচীর অফিসে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে কিছু নথি ও সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। এরপর তদন্তকারীরা তাঁকে নিয়ে যান রাজারহাটের একটি অভিজাত আবাসনে, যেখানে তাঁর নামে দু’টি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা যায়।

সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চলে। বিশেষ করে ১৩ তলার একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনা কেনার রসিদ উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি। পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথিও হাতে পেয়েছে পুলিশ।

তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এখন এই সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের উৎস খুঁজে বের করা। উদ্ধার হওয়া রসিদ ও নথিপত্রের সঙ্গে সব্যসাচীর পরিচিত আয় এবং সম্পত্তির হিসাবের কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। সল্টলেকের এক ব্যবসায়ী বিধাননগর কমিশনারেটে অভিযোগ দায়ের করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে অর্থ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। অভিযোগে সব্যসাচী দত্তের নামও উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপর গত ৯ জুন গভীর রাতে রাইগাছির একটি আবাসনে অভিযান চালিয়ে সব্যসাচী দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর থেকেই জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

রাজনৈতিক জীবনেও একাধিক উত্থান-পতনের সাক্ষী সব্যসাচী দত্ত। ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন। পরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হলেও জয় পাননি।

পরবর্তীতে আবার তৃণমূলে ফিরে এসে ২০২২ সালের বিধাননগর পুরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং পুরবোর্ডের চেয়ারপার্সনের দায়িত্বও পান। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বারাসত কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সাফল্য আসেনি। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া নথি ও সোনা কেনার রসিদ ঘিরে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসনিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর