নতুন বছরের শুরুটা রোহিত শর্মার কাছে যেন দুঃস্বপ্ন। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে একেবারেই ছন্দে ছিলেন না ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। বড় মঞ্চের ক্রিকেটার হিসেবে যাঁর উপর ভরসা করে এসেছে টিম ইন্ডিয়া, সেই রোহিতই এবার পরিসংখ্যানের নিরিখে দাঁড়িয়ে গেলেন নিজের কেরিয়ারের অন্যতম খারাপ অধ্যায়ের সামনে। প্রশ্ন উঠছে—২০২৭ সালের বিশ্বকাপের দলে কি এখনও নিশ্চিত তাঁর জায়গা?
নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজে রোহিতের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৬১ রান—বরোদায় ২৬, রাজকোটে ২৪ এবং ইন্দোরে সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচে মাত্র ১১। গড় দাঁড়ায় মাত্র ২০। বিশেষ করে ইন্দোরে ৩৩৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ার ম্যাচে তাঁর ইনিংস নিয়ে প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। প্রথম বলেই চার মেরে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বড় কিছুর, কিন্তু তার পরই আবার সেই চেনা ছবি—বড় শটের চেষ্টা, ভুল টাইমিং এবং ক্যাচ আউট।


এই সিরিজে তিন ম্যাচেই রোহিত আউট হয়েছেন আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে। এমনকি শেষ ম্যাচে জীবনদান পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ফলাফল—২০১৩ সালে পূর্ণকালীন ওপেনার হওয়ার পর কমপক্ষে তিন ইনিংস খেলা সিরিজগুলির মধ্যে এটাই তাঁর সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স।
পরিসংখ্যান বলছে, ওপেনার হিসেবে রোহিতের এর চেয়েও খারাপ সিরিজ ছিল একটাই—২০১২ সালে শ্রীলঙ্কা সফর। তখন পাঁচ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ১৩ রান। তবে সে সময় তিনি নিয়মিত ওপেনার ছিলেন না। সেই তুলনায় বর্তমান সিরিজের ব্যর্থতা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
এই মুহূর্তে ভারতের পরবর্তী ওয়ানডে সিরিজের আগে প্রায় পাঁচ মাস সময় রয়েছে। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়—এই ফরম্যাটে এখন কার্যত শুধু ওয়ানডেই খেলছেন রোহিত। ফলে ম্যাচ প্র্যাকটিস ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। সামনে আর একটি ব্যর্থ সিরিজ এলেই নির্বাচকদের প্রশ্ন আরও জোরালো হবে।


একই সঙ্গে নজর রয়েছে বিরাট কোহলি-র দিকেও। তবে পরিসংখ্যানের বিচারে সেখানে ছবিটা আলাদা। অক্টোবরের পর সাত ইনিংসে ৬১৬ রান, যার মধ্যে তিনটি শতরান। তুলনায় রোহিত পিছিয়ে পড়ছেন—অক্টোবর ২০২৫ থেকে নয় ইনিংসে তাঁর রান ৪০৯।
তবে শুধু সংখ্যাই সব নয়। রোহিত শর্মা মানেই বড় ম্যাচের ক্রিকেটার, নেতৃত্বগুণ আর অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। কিন্তু বয়সও বাস্তবতা—এপ্রিলেই ৩৯-এ পা দেবেন তিনি। আধুনিক ভারতীয় ক্রিকেটে দীর্ঘদিন খারাপ ফর্ম মেনে নেওয়ার অবকাশ খুব কম।
তবু ইতিহাস রোহিতের পক্ষেই কথা বলে। খারাপ সময় পেরিয়ে তিনি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে যদি আবার ছন্দে ফেরেন, তা হলে নকআউটে থেমে যাওয়া আর ট্রফি জয়ের স্বপ্ন—এই দুইয়ের পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন তিনিই।







