আর জি কর কাণ্ডের তদন্ত নিয়ে আগেই উঠেছিল প্রশ্ন। সেই বিতর্কের মাঝেই তদন্তকারী আধিকারিকের পদোন্নতি ঘিরে নতুন করে ক্ষোভ ছড়াল নির্যাতিতার পরিবারের মধ্যে। সিবিআই আধিকারিক সীমা পাহুজার পদোন্নতির খবর সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিলেন নির্যাতিতার মা—এমনকি তাঁকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারিও দিলেন তিনি।
আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রথম থেকেই সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই মামলার তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজা এতদিন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে ছিলেন। সম্প্রতি পদোন্নতি হয়ে তিনি পুলিশ সুপার হয়েছেন। তাঁকে দিল্লির স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ (১)-এ বদলি করা হলেও আর জি কর মামলার তদন্তভার এখনও তাঁর হাতেই থাকছে।
এই পদোন্নতির খবর সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নির্যাতিতার মা। তাঁর অভিযোগ, তদন্তে গুরুতর গাফিলতি হয়েছে এবং সেই কারণেই এখনও আসল সত্য সামনে আসেনি। তাঁর দাবি, সীমা পাহুজা নামমাত্র তদন্তকারী আধিকারিক হলেও বাস্তবে তিনি নিজে তদন্ত করেননি।
নির্যাতিতার মায়ের আরও অভিযোগ, তদন্তকারী অফিসার নাকি পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগই রাখেন না। হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, “আমি সীমা পাহুজা ম্যাডামকে জেলে ঢুকিয়ে ছাড়ব। এতদিন যা তদন্ত করেছেন, তাতে ওঁর জেল হওয়া উচিত। কেসটা আর একটু এগোলেই ওঁর বিরুদ্ধে মামলা করব।”
তিনি আরও দাবি করেন, “উনি নিজে কোনও তদন্ত করেননি। পুলিশ যা বলেছে, তাতেই সিলমোহর দিয়েছেন। তাহলে এই মামলাটি হাতে নিলেন কেন? আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগও রাখেন না।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে এই ঘটনায় রাজ্য জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। তবে তিন মাসের মাথায় মামলার অন্যতম অভিযুক্ত, আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডল জামিন পান। কারণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা দিতে পারেনি সিবিআই।
এর পর থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। এক সময় সিবিআই তদন্তের দাবিতে হাই কোর্টে গিয়েছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। কিন্তু এখন তাঁরাই তদন্ত নিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছেও চিঠি লিখেছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে তদন্তকারী আধিকারিকের পদোন্নতি নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



