বাংলার প্রথম দফার ভোটে নজির—৯০ শতাংশেরও বেশি ভোটদান। সকাল থেকেই বুথে দীর্ঘ লাইন দেখে আঁচ মিলেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই পরিণত হল রেকর্ডে। দিন শেষে এই অভূতপূর্ব অংশগ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সাংবাদিক বৈঠকে মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট করে জানান, এবারের উচ্চ ভোটদানের পিছনে বড় কারণ ‘এসআইআর’ বা বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া। তাঁর কথায়, এই প্রক্রিয়ার ফলে মৃত এবং অন্যত্র স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে। ফলে প্রকৃত ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে আসায় ভোটদানের শতাংশ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।


তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু বাংলাতেই নয়, গোটা দেশেই সাম্প্রতিক নির্বাচনে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। Assam-সহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোটের হার বেড়েছে। বাংলায় ঐতিহ্যগতভাবেই ভোটদানের হার বেশি থাকে, এবার সেই ধারাই আরও জোরালো হয়েছে বলে মত সিইও-র।
পরিসংখ্যানও সেই দাবিকে সমর্থন করছে। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৪ শতাংশ, ২০১৬-তে ৮২.৬৬ শতাংশ এবং ২০২১-এ ৮১.৫৬ শতাংশ। কিন্তু ২০২৬-এর প্রথম দফায় সেই রেকর্ড ভেঙে ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে ভোটদান—যা রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য।
দ্বিতীয় দফাতেও এই প্রবণতা বজায় থাকবে বলে আশাবাদী নির্বাচন কমিশন। তবে শহরাঞ্চল, বিশেষ করে Kolkata-তে ভোটদানের হার তুলনামূলক কম থাকে—এই প্রশ্ন উঠতেই সিইও বলেন, “আমরা সকল নাগরিককে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কলকাতার মানুষও যেন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।”


ভোটের দিন কিছু বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর এলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলেই দাবি করেছেন তিনি। এই জন্য সমস্ত রাজনৈতিক দলকেই ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিইও।
সব মিলিয়ে, রেকর্ড ভোটদানের পিছনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, সংশোধিত ভোটার তালিকা এবং ভোটারদের আগ্রহ—এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবই বড় ফ্যাক্টর হিসেবে উঠে এসেছে।








