রাজনীতির ময়দানে নতুন চমক—দু’দল থেকেই দূরে সরে গিয়ে এবার নিজস্ব দল গড়ে সরাসরি ভোটযুদ্ধে নামার ঘোষণা করলেন রাজন্যা হালদার। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপ যে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।
বৃহস্পতিবার কলকাতার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজন্যা তাঁর নতুন দল ‘জনসংগ্রাম মঞ্চে’র ঘোষণা করেন। শুধু দল গঠনই নয়, একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, আসন্ন নির্বাচনে নিজেই প্রার্থী হবেন এবং একাধিক আসনে লড়াই করবেন।


একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের মঞ্চে উঠে ঝাঁজালো বক্তব্য রেখে নজর কেড়েছিলেন রাজন্যা। খুব অল্প সময়েই দলের অন্দরে পরিচিতি তৈরি হলেও, পরবর্তীতে বিভিন্ন বিতর্ক—বিশেষ করে আর জি কর কাণ্ড ঘিরে তৈরি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিকে কেন্দ্র করে—তাঁর রাজনৈতিক যাত্রায় ভাটা পড়ে। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল তাঁকে কার্যত সরিয়ে দেয়।
এরপর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনাও তৈরি হয়েছিল। দলের একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেখানেও জায়গা হয়নি তাঁর।
এই প্রেক্ষাপটেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করতে ‘জনসংগ্রাম মঞ্চে’র সূচনা। রাজন্যা জানিয়েছেন, তিনি সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র-সহ একাধিক আসনে লড়বেন। এই কেন্দ্রে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন তৃণমূলের লাভলি মৈত্র।


নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে রাজন্যা বলেন, “২০২৬ আমাদের কাছে শুরু। আমরা হয়তো সরকার গড়তে পারব না, কিন্তু লড়াই থেকে সরে যাব না। জয়-পরাজয় পরে, লড়াইটাই আসল।”
ইতিমধ্যেই তাঁর দলের ইস্তেহারও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে কর্মসংস্থান, চাকরির অভাব, মৌলিক অধিকার ও নারী সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে সামনে আনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন দল গড়ে ভোটের ময়দানে নামার এই সিদ্ধান্ত রাজন্যা হালদারকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিল—এখন দেখার, ভোটের লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন তিনি।









