পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আরও ভয়ংকর মোড় নিচ্ছে। মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের মুখপাত্র আলি মহম্মদ নাইনি নিহত—এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। শুধু প্রতিশোধের হুঁশিয়ারিই নয়, এবার ব্রিটেনকেও সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান, যা যুদ্ধের পরিসর আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম শুক্রবার নাইনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন নাইনি। তাঁর দাবি ছিল, যদি সত্যিই ইরানের নৌসেনা ধ্বংস হয়ে থাকে, তাহলে পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে তা প্রমাণ করুক আমেরিকা। সেই মন্তব্যের অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের নৌক্ষমতা কার্যত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইরান সেই দাবি মানতে নারাজ ছিল। বরং পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েই উত্তেজনা বাড়িয়েছিল তেহরান।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুট কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ইরান, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন প্রশাসন ন্যাটো ও অন্যান্য দেশকে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া-সহ একাধিক দেশের নামও উল্লেখ করা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি।
এই আবহেই ব্রিটেনকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আমির আরাঘচি। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রসচিব ইভেট কুপারের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যদি ব্রিটেন আমেরিকাকে সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে তাকে ‘শত্রুপক্ষ’ হিসেবেই দেখা হবে। সেই ক্ষেত্রে ব্রিটেনের উপরও আক্রমণ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
নাইনির মৃত্যুর পর ইজরায়েলের উপরও নতুন করে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর। ফলে সংঘাত যে আরও তীব্র আকার নিতে পারে, তা স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাত এখন আর শুধুমাত্র আঞ্চলিক সীমায় আটকে নেই। ইউরোপ পর্যন্ত তার ছায়া পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় সতর্কবার্তা।



