দক্ষিণ এশিয়া থেকে আটলান্টিক—ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে বিস্ফোরক দাবি—পাকিস্তান গোপনে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরির পথে এগোচ্ছে। এই খবর সামনে আসতেই শুধু ওয়াশিংটন নয়, নয়াদিল্লিতেও উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ, এই প্রযুক্তি বাস্তবে রূপ নিলে বদলে যেতে পারে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণ।
মার্কিন ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স তুলসী গ্যাবার্ড সেনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে জানান, ভবিষ্যতে পাকিস্তান এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে, যা সরাসরি মার্কিন মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। ৫,৫০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকেই আইসিবিএম বলা হয়, যা এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে আঘাত হানতে পারে।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ, রাশিয়া, চিন, উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং পাকিস্তান—এই পাঁচ দেশই তাদের পারমাণবিক ও প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তান নিজেদের সামরিক ক্ষমতা বাড়াতে আরও সক্রিয় হয়েছে। ইতিমধ্যেই তারা ‘শাহীন-৩’ নামের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করেছে, যার পাল্লা প্রায় ২,৭০০ কিলোমিটার। এবার সেই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র তৈরির দিকে ঝুঁকছে ইসলামাবাদ।
অন্যদিকে চিনের হাতে ইতিমধ্যেই ‘ডংফেং-৪১’-এর মতো অত্যাধুনিক আইসিবিএম রয়েছে, যার পাল্লা ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ কিলোমিটার। এটি আমেরিকার যে কোনও অংশে আঘাত হানতে সক্ষম। চিন পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা দ্রুত বাড়াচ্ছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াও। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দেশগুলির মধ্যে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়লে তা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ৩,০০০। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ১৬,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান যদি সত্যিই আইসিবিএম সক্ষমতা অর্জন করে, তা শুধু আমেরিকার জন্য নয়, ভারতের জন্যও বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই উন্নয়ন নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
তবে প্রতিরক্ষা ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারতও পিছিয়ে নেই। দেশের স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কম্যান্ডের অধীনে ‘অগ্নি-৫’-এর মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হয়েছে, যা প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
সব মিলিয়ে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির এই দৌড় বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াচ্ছে—আর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর।



